
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সীমিত সম্পদ ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সরকার এমন একটি বাজেট প্রণয়ন করেছে, যেখানে সমাজের প্রায় প্রতিটি শ্রেণির মানুষের জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা, কর্মসূচি ও বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মধ্যে জাতীয় বাজেট প্রণয়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এ কাজে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসন ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল অতিক্রম করে দেশের জনগণ একটি অংশগ্রহণমূলক ও জনমুখী বাজেট প্রত্যাশা করেছিল। এবারের বাজেটে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। সরকার প্রতিটি মানুষকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং নৈতিক ভিত্তির ওপর রাষ্ট্র পরিচালনার মাধ্যমে অপচয় রোধ ও কার্যকর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায়।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখতে প্রয়োজনীয় নীতি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটের নীতি ও দর্শন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’, অর্থনৈতিক গণতন্ত্র এবং নৈতিক ভিত্তির ওপর রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। অতীতে দেশের অর্থনীতি পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবস্থার কারণে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে বহু মানুষ উন্নয়নের মূলধারা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এবারের বাজেটে সেই বৈষম্য কমিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু নীতিগত ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় রোডম্যাপও বাজেটে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এ কারণে এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট, দর্শন ও পরিকল্পনা অতীতের তুলনায় ভিন্ন ও অধিক বাস্তবমুখী।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার, উন্নয়ন কৌশল এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অর্থ সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার।





