
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেট আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রথমবারের মতো ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা অঙ্কের বিচারে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জাতীয় বাজেট। ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বি-নিয়ন্ত্রণকরণ : সবার জন্য উন্নয়ন’ দর্শনকে সামনে রেখে বাজেটটি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
সরকারের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়া। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য এটি প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের বাজেটের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ : ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’। বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়নের তুলনায় মানবসম্পদ উন্নয়নে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সে কারণে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া দেশীয় শিল্পের বিকাশ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণা আসার সম্ভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি ২৫ লাখ নাগরিককে স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার আওতায় আনতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ নতুন কয়েকটি কর্মসূচি যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোর বরাদ্দ বাড়ানো হতে পারে। বিদেশে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণের বিষয়টিও বাজেটে প্রতিফলিত হতে পারে বলে জানা গেছে।
এদিকে যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ থেকে দূরে রেখে সৃজনশীল ও উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
আগামী ১৫ জুন চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পাস হওয়ার পর ১৬ জুন থেকে নতুন বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হবে। সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাস করতে হবে।





