
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের পর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশা জোরালো হওয়ায় স্বর্ণবাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সোমবার (৮ জুন) বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৯০ দশমিক ৬৬ ডলারে নেমে আসে। এটি গত ২৩ মার্চের পর সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে শুক্রবারও স্বর্ণের দাম তিন শতাংশের বেশি কমেছিল। অন্যদিকে, আগামী আগস্টে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম এক দশমিক এক শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩১৫ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন শ্রম দপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত মে মাসে দেশটিতে অকৃষি খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার। প্রত্যাশার চেয়ে ভালো এই কর্মসংস্থান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চলতি বছরের ডিসেম্বরে ফেড সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহ আগেও ফেডের সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৪৫ শতাংশ। তবে শক্তিশালী কর্মসংস্থান তথ্য প্রকাশের পর সেই সম্ভাবনা বেড়ে ৭০ শতাংশেরও বেশি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কারণ স্বর্ণ থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায় না। ফলে উচ্চ সুদের পরিবেশে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের পরিবর্তে ব্যাংক আমানত, বন্ড বা ট্রেজারি নোটের মতো সুদভিত্তিক সম্পদে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম দীর্ঘসময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে তা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য নীতিনির্ধারণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।





