দুই বছরেও মেলেনি স্টপেজ: ঈদগাঁওতে রেল সুবিধা থেকে বঞ্চিত সাত লক্ষ মানুষ

Date:

spot_img

কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক ‘ইসলামাবাদ রেল স্টেশন’ নির্মিত হয়েছে দুই বছর আগে। দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন উদ্বোধনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলেও, দুই বছরেও সেখানে থামেনি ঢাকাগামী কোনো ট্রেন। ফলে ঘরের কাছে রেল স্টেশন থাকা সত্ত্বেও প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কক্সবাজার শহরে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এতে সময়, অর্থ ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাত লক্ষাধিক মানুষ।

​সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের শেষদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ শুরু হওয়ার পর থেকে পর্যটন নগরীর যাতায়াতে বিপ্লব ঘটলেও ব্রাত্য রয়ে গেছে ঈদগাঁও। ঈদগাঁও উপজেলা ছাড়াও পাশের রামুর রশিদনগর, ঈদগড়, গর্জনিয়া; কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডী ও ভারুয়াখালী; চকরিয়ার খুটাখালী এবং নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের বাসিন্দাদের রেল ভ্রমণের একমাত্র ভরসা এই ইসলামাবাদ স্টেশন।

​বর্তমানে এই অঞ্চলের যাত্রীদের উল্টো পথে ৪৫-৫০ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনে গিয়ে ঢাকাগামী ট্রেনে উঠতে হয়। সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা তৈরি হয় ফেরার পথে। ট্রেন থেকে গভীর রাতে কক্সবাজার নামার পর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফিরতে গিয়ে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

​এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক স্টেশন ভবন ও প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হলেও ট্রেন না থামায় এটি এখন নামমাত্র স্থাপনায় পরিণত হয়েছে। ঈদগাঁও উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবুল কালাম এবং জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দীন বলেন:

​”ইসলামাবাদ স্টেশনটি কয়েক উপজেলার মানুষের জন্য প্রাণকেন্দ্র। এখানে স্টপেজ না থাকাটা এলাকাবাসীর সাথে এক ধরনের বঞ্চনা। দ্রুত এখানে যাত্রা বিরতি নিশ্চিত করা এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।”

​ইসলামাবাদ রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. আবদুল কাইয়ুম জানান, এই স্টেশনে ঢাকাগামী যাত্রীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই স্টেশনটি ব্যবহারকারী যাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশি হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করলে সরকারের রাজস্ব যেমন বাড়বে, তেমনি জনদুর্ভোগও লাঘব হবে।

​এ বিষয়ে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, “ইসলামাবাদ স্টেশনে ট্রেনের যাত্রা বিরতি না থাকায় স্থানীয় মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি আমি জানি। ইতোমধ্যে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। পর্যটন ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এখানে দ্রুত যাত্রা বিরতি চালুর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

​উল্লেখ্য, সরকার ঢাকা-কক্সবাজার রুটে নতুন ট্রেন সংযোজনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে ইসলামাবাদ স্টেশনে স্টপেজ রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, নতুন ট্রেনটি এখানে থামলে দীর্ঘ দুই বছরের বঞ্চনার অবসান ঘটবে।

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

খুলনায় টাইগার গার্ডেন হোটেলে এসি বিস্ফোরণে আগুন, পুড়ে গেছে কক্ষের সব মালামাল

এম রোমানিয়া, খুলনা ব্যুরো খুলনায় নগরীর শিববাড়ি মোড়ের টাইগার গার্ডেন...

বলিভিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ১০

বলিভিয়ায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন...

বাবার চাকুরির জন্য সন্তানের মানববন্ধন

দিনাজপুর প্রতিনিধি বাবার চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় মধ্যপাড়া গ্রানাইট...

ছিটকিনি লাগানোকে কেন্দ্র করে ববিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি 
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন একটি মেসের...