‎গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাজপথেই ফয়সালা হবে: এটিএম আজহারুল ইসলাম

Date:

spot_img


‎রংপুর প্রতিনিধি

‎গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে জনগণই রাজপথে এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন, ত্যাগ ও আত্মদানের মধ্য দিয়ে যে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তা ব্যর্থ হতে দেওয়া হবে না। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারকে চাপে রাখার কৌশল অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার (১ মে) রংপুর মডেল কলেজের হলরুমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগর ও জেলা শাখার বাছাইকৃত (রুকন) সদস্যদের তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। অসংখ্য ছাত্র-যুবকের আত্মদানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটেছে। আমি এটিকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা হিসেবে দেখি।” তিনি আরও বলেন, এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় তিনি মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কা থেকে মুক্তি পেয়েছেন, কারামুক্ত হয়েছেন এবং জনগণের ভোটে সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

‎সংসদীয় কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি জানান, গণভোট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর শপথ জামায়াত গ্রহণ করলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সংসদে গিয়ে কিছু মৌলিক অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে স্বৈরাচারী প্রবণতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এটিএম আজহার বলেন, আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি, সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি এবং সরকারকে চাপ প্রয়োগ করছি। জনগণের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে তিনি জানান, প্রস্তাবিত ১৭ সদস্যের কমিটিতে সরকার ১২ জন সদস্য মনোনয়ন দিয়েছে এবং বাকি পাঁচজনের নাম জামায়াতের কাছে চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দলীয় ও সংসদীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ঐক্যের রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ সালে হয়েছে, আর বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৭৮ সালে। বিভিন্ন দলে মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন জামায়াতেও আছেন। কিন্তু ঐক্যের কথা বললেও বিভেদের রাজনীতি পরিহার করা হচ্ছে না।

‎তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ভূমিকা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার অবদান উল্লেখ করেন। তিনি বলেন,গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ যে রায় দিয়েছেন, তা বাস্তবায়িত হলে ইতিহাসে তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর বাস্তবায়ন না হলে জনগণ রাজপথেই এর ফয়সালা করবে। নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পার্বতীপুর-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা, বদরগঞ্জে বাইপাস নির্মাণ, শ্যামপুর চিনিকল পুনরায় চালু, হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন, নারী ও যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মাদক প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি সংসদে উত্থাপন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, সংসদে আমার সময় মাত্র সোয়া দুই মাস। ৫৪ বছরে যা সম্ভব হয়নি, তা এত অল্প সময়ে করা কঠিন। তবে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর মহানগর আমির এটিএম আজম খান, মহানগর সেক্রেটারি কেএম আনোয়ারুল হক কাজল, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

খুলনায় টাইগার গার্ডেন হোটেলে এসি বিস্ফোরণে আগুন, পুড়ে গেছে কক্ষের সব মালামাল

এম রোমানিয়া, খুলনা ব্যুরো খুলনায় নগরীর শিববাড়ি মোড়ের টাইগার গার্ডেন...

বলিভিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ১০

বলিভিয়ায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন...

বাবার চাকুরির জন্য সন্তানের মানববন্ধন

দিনাজপুর প্রতিনিধি বাবার চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় মধ্যপাড়া গ্রানাইট...

ছিটকিনি লাগানোকে কেন্দ্র করে ববিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি 
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন একটি মেসের...