
বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনশক্তি রফতানি সম্প্রসারণে গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাপানের কৃষিমন্ত্রী ও দেশটির সরকারের বিশেষ দূত সুজুকি নরিকাজুর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান জানান।
বৈঠকে কৃষি, প্রযুক্তি ও অটোমোবাইল খাতে জাপানের বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি জাপানে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে বলেন, “কৃষি, ইলেকট্রনিকস ও অটোমোবাইল শিল্পে জাপানি বিনিয়োগ বাড়লে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।”
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণে অভিনন্দন জানিয়ে জাপানের কৃষিমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জাপানকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষিখাতে বাংলাদেশি দক্ষ জনবল জাপানে পাঠানোর প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। জাপানি প্রতিনিধিদল এ প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে এবং প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোসহ বাংলাদেশে জাপানি খাদ্যপণ্য রপ্তানির আগ্রহ প্রকাশ করে।
এ সময় মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, মেট্রোরেল এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ জাপানের সহায়তায় চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাপান ১৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেয়। তবে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের ওপর বিশেষ জোর দেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি সুবিধাজনক সময়ে সফরের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কৃষি ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর এবং বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি উপস্থিত ছিলেন।





