
আজ পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে স্বাগত জানাতে দেশজুড়ে চলছে নানা আয়োজন। বিদায়ী ১৪৩২-কে পেছনে ফেলে নতুন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে এলো নতুন বছর। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে বরাবরের মতোই নববর্ষ উদযাপনে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য—‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। বর্ণিল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ ঐতিহ্যের নানা উপস্থাপনায় মুখর থাকবে পুরো ক্যাম্পাস।
নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তারা বাঙালির এই সর্বজনীন উৎসবকে জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।
হাজার বছরের ঐতিহ্য বহন করে পহেলা বৈশাখ বাঙালির আত্মপরিচয়ের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে এই উৎসব হয়ে ওঠে অসাম্প্রদায়িক চেতনার মিলনমেলা। ইতিহাসের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় সংগ্রাম ও গৌরবের সাক্ষী হয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে বাংলা নববর্ষ।
বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ। ঋতু পরিবর্তনের এই বৈচিত্র্য বাঙালির জীবন ও সংস্কৃতিকে করেছে সমৃদ্ধ। গ্রীষ্মের দাবদাহ, বর্ষার বৃষ্টি, শরতের শুভ্রতা, হেমন্তের সোনালি রূপ, শীতের কুয়াশা ও বসন্তের রঙিন আবহ—সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেমন বদলায়, তেমনি বদলায় মানুষের জীবনযাত্রা ও অনুভূতি।
বর্তমান বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রবর্তন ঘটে মোগল সম্রাট আকবরের আমলে। কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সুবিধার্থে ফসলি মৌসুম অনুযায়ী এই ক্যালেন্ডার চালু করা হয়। এতে কৃষকদের খাজনা প্রদান সহজ হয়। একই সঙ্গে নববর্ষকে কেন্দ্র করে শুরু হয় হালখাতার প্রচলন—ব্যবসায়ীরা পুরোনো হিসাব চুকিয়ে নতুন খাতা খোলেন।
আজও সেই ঐতিহ্য বহমান। পহেলা বৈশাখ মানেই নতুন শুরুর প্রত্যয়, পুরোনোকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে বরণ করে নেওয়ার আনন্দ। এই উৎসব বাঙালির প্রাণে জাগিয়ে তোলে নতুন উদ্যম, নতুন স্বপ্ন আর এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।





