
আলী কদর পলাশ
তাজু ভাইকে নিয়ে উপহাস করার আগে আমাদের একটু থামা দরকার।
কারণ তিনি কেবল একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর নন।
তিনি প্রান্তিক বাস্তবতা থেকে উঠে আসা একজন মানুষ।
যিনি সীমিত সামর্থ্য নিয়েও কিছু করার চেষ্টা করছেন।
হয়তো তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই।
হয়তো তার ভাষা, উপস্থাপনা বা কনটেন্টে অনেক অপূর্ণতা আছে।
কিন্তু তবুও তিনি চেষ্টা করছেন।
নিজের মতো করে ভিডিও বানাচ্ছেন।
নিজের বাস্তবতা থেকে কিছু তৈরি করছেন।
এই চেষ্টাটাই ছোট নয়।
সমস্যা হলো, তার এই কনটেন্টকে কেন্দ্র করে একশ্রেণির মানুষ ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে নেমেছেন।
আর দুঃখের বিষয়, তাদের মধ্যে শিক্ষিত সাংবাদিকও আছেন।
তারা তাজুর ভিডিও ডাউনলোড করে নিজেদের প্রোফাইলে দিচ্ছেন।
সমালোচনার নামে তাকে ছোট করছেন।
আবার সেই ভিডিও থেকেই ভিউ নিচ্ছেন, আলোচনায় থাকছেন, আয়ও করছেন।
এখানে প্রশ্ন তাজুকে নিয়ে নয়।
এখানে প্রশ্ন আমাদের নৈতিকতা নিয়ে।
অন্যের কনটেন্ট ব্যবহার করে তাকে উপহাস করা কখনোই ভদ্রতা নয়।
সাংবাদিকতা তো নয়ই।
তাজুর কনটেন্ট অনেকের কাছে দুর্বল মনে হতে পারে।
হাস্যকরও লাগতে পারে।
কিন্তু সেই কনটেন্টই যদি তার আয়ের পথ হয়,
তাহলে সেটাকে অবজ্ঞা করার আগে ভাবা উচিত।
কারণ তিনি অন্তত নিজের সামর্থ্য দিয়ে কিছু করার চেষ্টা করছেন।
আজকের সময়ে ভাইরাল হওয়াই যেন বড় সাফল্য।
কে কাকে ব্যবহার করে সামনে যাচ্ছে, সেটাই যেন মূল প্রতিযোগিতা।
এই বাস্তবতায় তাজুকে নিয়ে হাসাহাসি করা সহজ।
কিন্তু নিজেদের আচরণ আয়নার সামনে দাঁড় করানো কঠিন।
তাজুর সীমাবদ্ধতা চোখে পড়ে।
কিন্তু তথাকথিত শিক্ষিতদের স্বার্থপরতাও কম স্পষ্ট নয়।
একজন প্রান্তিক মানুষকে উপহাস করে যদি কেউ নিজের অবস্থান শক্ত করতে চান,
তাহলে সেটা তার শিক্ষা বা পেশার মর্যাদা বাড়ায় না।
বরং কমায়।
তাজুকে সমালোচনা করা যেতে পারে।
ভুল ধরিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
কিন্তু তাকে হেয় করে নয়।
তার কনটেন্ট চুরি করে নয়।
তার সংগ্রামকে হাসির উপকরণ বানিয়ে নয়।
আমাদের আরও সংবেদনশীল হওয়া দরকার।
কারণ সব মানুষ সমান জায়গা থেকে শুরু করে না।
কেউ সুযোগ নিয়ে এগোয়।
কেউ শুধু বাঁচার জন্য লড়তে লড়তে কিছু তৈরি করে।
তাজু ভাই সেই দ্বিতীয় দিকের মানুষ।
এই কারণে তাকে নিয়ে ঠাট্টা নয়,
বরং বাস্তবতা বুঝে কথা বলাই বেশি মানবিক।
২৯ মার্চ, ২০২৬
ধানমন্ডি, ঢাকা





