
ফজলুল করিম সেলিম, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
বংশাল থানাধীন ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির রাজনীতিতে মোহাম্মদ লিটন একটি পরিচিত নাম। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে রাজপথের আন্দোলন, মামলা-হামলা ও নির্যাতনের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। ১৯৯১ সালে রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। পরবর্তীতে একজন বলিষ্ঠ কর্মী হিসেবে ২০০১ সাল থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পদ লাভ করেন।
২০০১ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লিটনের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়—মোট মামলা ছিল প্রায় ১৩০টি। এর মধ্যে একটি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা ভোগ করতে হয় তাকে। কারাবরণ করেন ২৪ বার। এমনকি তাকে না পেয়ে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করে—তার বোনজামাই ও ছোট ভাইকে গ্রেপ্তার করে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম চাপ ও নির্যাতনের মুখে পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের আমলে ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নানা ধরনের হয়রানি, হামলা ও মামলার ঘটনা ছিল নিয়মিত। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক কমিশনার আবু সাঈদ, আলী হোসেন নাদিম, নানক আশিকসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রহিম ও আওয়ামী লীগের অর্থদাতা হাজী রিপনের নেতৃত্বে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো। বংশালের গাফফারসহ আরও অনেকে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয় নেতারা দাবি করেন।
২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিএনপি যুবদলের কর্মী মো. ফজলুল করিম সেলিম ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট হিসেবে হাজী মাজহারুল হক মালিটোলা কেন্দ্রে গেলে আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জন কর্মী তাকে মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয় বলে অভিযোগ। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।
দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনে বংশাল এলাকায় বহু নেতাকর্মী গুম ও নিখোঁজের শিকার হয়েছেন বলে বিএনপির দাবি। নিখোঁজদের মধ্যে বংশালের সোহেল, মালিটোলার পারভেজ হোসেন, মতিঝিলের জহির ও ছাত্রদলের সভাপতি আনোয়ারের নাম উল্লেখ করা হয়। এখনো পর্যন্ত তাদের সন্ধান মেলেনি।
এই দীর্ঘ সংগ্রামে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ঢাকা-৭ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমান হামিদ, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল সালাম, বংশাল থানার সভাপতি তাইজু আহমেদ তাইজু এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মামুন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন বলে স্থানীয় নেতারা জানান। এছাড়া ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনারসহ আরও অনেক নেতার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২৪ সালের আগস্টে বিএনপি সমর্থিত আন্দোলন বিজয়ের মুখ দেখে বলে নেতাকর্মীরা মনে করেন। বর্তমানে মোহাম্মদ লিটন বংশাল থানায় দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সংগঠন শক্তিশালী করতে কাজ করছেন। তার ভাষায়, “দীর্ঘদিন নির্যাতন সহ্য করেছি, তবুও রাজপথ ছাড়িনি। জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াই চলবেই।”
বংশাল এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, এই সংগ্রামী ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে রাজনীতিতে সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগাবে। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনীতি করার সুযোগ আরও প্রসারিত হবে।





