
বিশেষ প্রতিনিধি
নওগাঁ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উপলক্ষে ১২ সেপ্টেম্বর একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত র্যালিতে নওগাঁ জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মহোদয় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নওগাঁ জেলার সম্মানিত জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদের প্রশাসক, সিভিল সার্জনসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিগণ এবং জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
র্যালির মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর সংশ্লিষ্টরা গুরুত্বারোপ করেন।
র্যালিটি সকাল সাড়ে নয়টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক, শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বাজার এলাকা ঘুরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা হাতে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে মিছিল করে এগিয়ে যান। এতে লেখা ছিল—‘ডেঙ্গুমুক্ত নওগাঁ চাই’ ‘পরিচ্ছন্নতাই স্বাস্থ্যের চাবিকাঠি’ ‘এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করুনথ, ‘ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখুন’ ইত্যাদি স্লোগান। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও র্যালিতে সক্রিয়ভাবে যোগ দেন।
র্যালি শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়, প্রতিটি পরিবার ও ব্যক্তির সচেতনতাই প্রধান হাতিয়ার। তিনি সবাইকে বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলদানি, টায়ার ও অন্যান্য জলাধার নিয়মিত পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পুলিশ প্রশাসন সবসময় জনগণের পাশে থাকবে। সিভিল সার্জন ডেঙ্গুর লক্ষণ ও প্রাথমিক চিকিৎসার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন এবং সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে নওগাঁ জেলাকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখার লক্ষ্যে সকল স্তরের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, এমন সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে ডেঙ্গুর প্রকোপ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে এবং জেলার জনস্বাস্থ্য আরও সুরক্ষিত হবে।





