
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানবিরোধী কোনো কাজ করেছেন কি না, তা আগে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় পার্টি। এমন কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সাবেক রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তারের দাবি তোলার কারণ দেখছে না দলটি।
রোববার (২৬ জুলাই) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে ২০২৫ সালের দলীয় আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, অসুস্থতার কারণে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সংবিধানবিরোধী কোনো কাজ করেছেন কি না, সেটি যথাযথভাবে যাচাই করা উচিত। এমন কিছু প্রমাণিত না হলে তার গ্রেপ্তারের দাবি যৌক্তিক নয় বলে জাতীয় পার্টি মনে করে।
দলীয় আর্থিক হিসাব তুলে ধরে রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, ২০২৪ সালের স্থিতিসহ ২০২৫ সালের শুরুতে জাতীয় পার্টির ব্যাংক হিসাবে ছিল ২ কোটি ৬৬ লাখ ৫৫ হাজার ১৬৪ টাকা। ২০২৫ সালের আয়-ব্যয়ের পর বর্তমানে ব্যাংকে জমা রয়েছে ৭৮ লাখ ৬১ হাজার ৭৩১ টাকা। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করায় গত বছরে দলের ব্যয় তুলনামূলক বেশি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের সুযোগ না থাকলেও জাতীয় পার্টি-সমর্থিত প্রার্থীরা বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আনুষ্ঠানিক দলীয় মনোনয়ন না থাকলেও এসব প্রার্থীর প্রতি দলের সমর্থন থাকবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জাতীয় পার্টিতে যে বিভাজন তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব বর্তমানে তৃণমূল পর্যায়ে নেই বলেও দাবি করেন রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, যারা দল ছেড়ে গিয়েছিলেন, তাদের অধিকাংশই জিএম কাদেরের নেতৃত্বে দলে ফিরে এসেছেন। ভবিষ্যতে বিভক্ত অংশগুলোর একীভূত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জাতীয় পার্টি-সমর্থিত প্রার্থীরা ভালো ফল করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।





