বিএনপির পরিকল্পনা মানেই জনগণের পরিকল্পনা, সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

Date:

spot_img

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা মূলত জনগণের পরিকল্পনা। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে যারা বাধা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। জনগণ সচেতন থাকলেই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ডের ৩য় পর্যায়ের বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মালিক জনগণ। তাই দেশের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় জনগণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সরকারের উদ্যোগে নয়, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব।

তিনি বলেন, সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং একটি নিরাপদ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলা। বাংলাদেশ কোনো একক দল বা পরিবারের নয়, এটি ২০ কোটি মানুষের দেশ। দেশের অগ্রগতি মানেই জনগণের অগ্রগতি।

অতীতের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, যখনই দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তা খাত উন্নয়নের পথে এগিয়েছে, তখনই কিছু মহল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ হরতাল-অবরোধ ও সহিংসতার কারণে দেশের ক্ষতি হয়েছে। তবে এখন মানুষ শান্তি, কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন চায়।

সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চার কোটি পরিবারের নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, প্রায় তিন কোটি কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড, শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন পোশাক এবং ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ এবং আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে কর কমানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

বিরোধীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা সরকারকে কাজ করার সময় দিতে চায় না, তারা মূলত নিজেদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে। কারণ বর্তমান সরকার জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় করতে বদ্ধপরিকর।

তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া বিএনপির প্রতিশ্রুতিগুলো এখন শুধু দলের অঙ্গীকার নয়, বরং দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রত্যাশা। জনগণ পাঁচ বছরের জন্য সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে, তাই সেই রায়ের প্রতি সম্মান দেখানো সবার দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপির বহু নেতাকর্মী আত্মত্যাগ করেছেন, কারাবরণ করেছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের অবদান কখনও ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই।

দেশ থেকে অর্থ পাচার বন্ধের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না। রাষ্ট্রের সম্পদ দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর অর্থায়ন সেখান থেকেই নিশ্চিত করা হবে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছে জনগণ, স্বৈরাচারমুক্তও করেছে জনগণ। তাই দেশ গঠনের নেতৃত্বও জনগণই দেবে। আগামী দিনের রাজনীতি হবে উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জনগণের কল্যাণকেন্দ্রিক রাজনীতি।

তিনি বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ—এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।”

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

খুলনায় টাইগার গার্ডেন হোটেলে এসি বিস্ফোরণে আগুন, পুড়ে গেছে কক্ষের সব মালামাল

এম রোমানিয়া, খুলনা ব্যুরো খুলনায় নগরীর শিববাড়ি মোড়ের টাইগার গার্ডেন...

বলিভিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ১০

বলিভিয়ায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন...

বাবার চাকুরির জন্য সন্তানের মানববন্ধন

দিনাজপুর প্রতিনিধি বাবার চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় মধ্যপাড়া গ্রানাইট...

ছিটকিনি লাগানোকে কেন্দ্র করে ববিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি 
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন একটি মেসের...