
লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক সংলাপ শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগোট। খবর রয়টার্সের।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৫ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে টমি পিগোট বলেন, ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে দুই দিনের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষ হয়েছে এবং তা ছিল “খুবই ফলপ্রসূ”। তিনি জানান, গত ১৬ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ এই আলোচনার পর আরও ৪৫ দিন বাড়ানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ ইরানে মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলার পর ২ এপ্রিল থেকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। প্রায় দেড় মাস ধরে চলা সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ। আগামী রোববার সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই নতুন করে সময় বাড়ানোর ঘোষণা এলো।
টমি পিগোট আরও জানান, এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও অংশ নিয়েছেন। আগামী ২৯ মে’র মধ্যে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে একটি নতুন ‘নিরাপত্তা লাইন’ প্রস্তাব করবেন। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে আগামী ২ থেকে ৩ জুন আবারও ওয়াশিংটনে বৈঠকে বসবেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি, এই সংলাপ দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তির ভিত্তি আরও শক্তিশালী করবে। একইসঙ্গে পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও সীমান্ত এলাকায় এখনো উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি, তবুও কূটনৈতিক আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকাকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।





