বোরহানউদ্দিনে তেতুলিয়া নদীতে অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন

Date:

spot_img

ভোলা প্রতিনিধি

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার তেতুলিয়া নদীতে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে শত শত একর কৃষিজমি ও হাজারো কৃষক পরিবারের বসতভিটা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে কোস্ট গার্ডের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা ফাইজুল ইসলামের একটি, কাচিয়া এলাকার মফিজের একটি, থানার মোড় আমতলা এলাকার সুতা নুরনবীর একটি, নুরু ড্রেজারের একটি এবং খেয়াঘাট এলাকার আল আমিন মোল্লার একটি ড্রেজার মেশিনসহ মোট পাঁচটি লোড ড্রেজার দিয়ে হাসের চর এলাকায় বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এছাড়াও গঙ্গাপুর ইউনিয়নের চর বাগমারা এলাকায় আরও চারটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে।

অবিরাম বালু উত্তোলনের ফলে চর বাগমারার উত্তর অংশে তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তেতুলিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত ৯টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং নদীর তলদেশে সৃষ্টি হচ্ছে গভীর খাদ।

এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলগুলোতে। চর লতিফ ও চর বাগমারা এলাকায় ইতোমধ্যে অনেক কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বসতভিটা হারানোর আতঙ্কে অনেক পরিবার বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল মালেক বলেন,
“একদিকে নদী ভাঙছে, অন্যদিকে ড্রেজার বন্ধ করার কেউ নেই। ভোলা কোস্ট গার্ড নিরব ভূমিকা পালন করছে। আমরা কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচব—দেখার কেউ নেই।”

জানা গেছে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রনজিৎ চন্দ্র দাস স্থানীয় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে ড্রেজার মেশিন আটক ও জরিমানা করলেও বন্ধ হয়নি অবৈধ বালু উত্তোলন। বরং সংশ্লিষ্টরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম বন্ধ করে নদী রক্ষা এবং চরাঞ্চলের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতি ও পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ নদীভাঙনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তারা দ্রুত মনিটরিং জোরদার ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। পাশাপাশি ভোলা কোস্ট গার্ডের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

তেতুলিয়া নদী ঘিরে গড়ে ওঠা এসব চরাঞ্চল শুধু কৃষির জন্যই নয়, স্থানীয় অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ কিছু অসাধু বালু খেকো চক্রের লোভে আজ সেই জনপদ ধ্বংসের মুখে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে আরও কয়েকটি চর।

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

বাচসাসের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট ২০ নভেম্বর

এম.আর.জে শান্ত: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের...

কমিশনার মামুনের পিতার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও বংশাল থানা...

আগামী তিন বছরে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

বাগেরহাট প্রতিনিধি আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশে এক লাখ নতুন...

খুলনায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কেসিসির অভিযান, ভাঙা হলো অবৈধ দোকানপাট

খুলনা প্রতিনিধি খুলনা নগরীর ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ...