
হ্যাঁ বন্ধুরা যে কথা লিখেছিলাম বাংলা একাডেমি কর্তৃক রাষ্ট্রিয় পদক ঘোষনার প্রেক্ষিতে এ রকম যাহার শিরোনাম ছিল “বিষয়টি লজ্জার” আপনাদের জন্য আবারও এ লেখার সাথে যুক্ত করলাম।
আমার তক্ষনি সন্দেহ মনে জন্মেছিল এই কারণেই বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে ঘটেছিল,রাষ্ট্রিয় পদক ঘোষনা দেওয়ার পর আবারও প্রত্যাহার করা হয়। যা মেটেই মেনে নেওয়া যায় না। তবুও ঘটেছে এটাই বাস্তবতা!
নিসন্দেহে যিনি পদক প্রাপ্ত হয়েছিলেন তিনার কোন দোষ ছিল কিনা আমাদের জানা নেই। তবে এ ব্যাপারে যে কেহ বলতে পারবে যাচাই বাছাই করার জন্য নিদ্ধারিত বিচারক থাকেন- তারা কি সব অযোগ্য? না নাকে খাটি সরিষার তেল মেখে নাক ডেকে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যাচাই করেছেন। নিশ্চয় ঘোষিত পদক প্রাপ্তদের পদক প্রত্যাহার করে সম্মানিত গুনীজনদের অপমান করার কোন অধিকার কর্তৃপক্ষের নেই।
পদক ঘোষনার ক্ষেত্রে বিগত দিনেও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টাও উঠে এসেছিল তবে সে বিষয়ে কোন সঠিক তথ্য আমরা আম জনতা কেহ জানতে পারেনি। আমি কারো নাম উল্লেখ করে তাদের ক্ষত ঘায়ে ব্যথা অনুভব করাতে চাই না। তাদের সাথে আমিও অনুতপ্ত।
লেখাপড়ার মাঝে সে কথা আমরা সবায় শিখেছি পাঠ্য পুস্তকে যে,” যে অন্যায় করে এবং যে অন্যায় পশ্রয় দেয়” সম ভাবে দোষী। আর্থিক লেনদেন যেন আমাদের সমাজে
একটা প্রচলিত অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে। আপনারা একটু খেয়াল করে দেখবেন কোন চাকরি প্রার্থী বা তার অভিভাবক যখন কেহ প্রভাব শালী ব্যাক্তিকে উপস্থাপনা করেন- উপস্থাপনা করেই বলবে যদি কিছু লাগে অসুবিধা নেই। এদিকে কিন্তুু তার সংসারে, সংসার চালাতে হিমসিম খেয়ে ওঠে তবুও চাকরির জন্য লাখ লাখ টাকা দিতে সম্মত আছে? আমি কিন্তু বর্তমান সমাজের চিত্রটা উপস্থাপনা করলাম মাত্র।
হ্যাঁ বন্ধুরা যে কথা বলছিলম; পদক ঘোষনা করার পর পদক প্রত্যাহার কিম্বা স্থগিত করাএটা আমাদের কারোই কাম্য নহে। আমার উপলব্ধিতে এই ধারনায় কাজ করছে যে এই সকল রাষ্ট্রিয় শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠানে যারা ডিজি হয়ে বসে আছেন তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে যথেষ্ট সন্দিহান।
রাষ্ট্রিয় সন্মামনা যেন কোন ক্রমেই বিতর্কের কারণ না হয় এই প্রত্যাশা সকলের।সাহিত্য ও সংস্কৃতি মার্যাদা রক্ষায় প্রয়োজন নিরপেক্ষ, সততা এবং যোগ্যতার সঠিক মুল্যায়ন।
আজ প্রথম আলো পত্রিকায়(২৭ ফেব্রুয়ারি ‘২৬) দ্বিতীয় পাতায় প্রথম কলামে প্রকাশিত শিরোনাম” বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার মনোনীত হয়েও পুরস্কার পেলেন না মোহন রায়হান। এই খবরের মধ্যেই সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন” এটা নিয়ে এখন কথা বলা যাবে না। বিষয়টি যেহেতু খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তাই এ বিষয়ে বলা যাবে না”।
অপর দিকে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন” মেহন রায়হানের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে তাই তাকে আপাতত পুরস্কার দেওয়া হয়নি।আমরা অভিযোগ গুলো যাচাই করে দেখছি”।
এ ছাড়াও একই খবরে উল্লেখ রয়েছে( মোহন রায়হানের পোষ্টের কথা)” এই পুরস্কার আমার একদমই প্রত্যাশা ছিল না।আমি একজনের কাছেও পুরস্কারের জন্য তদবির করিনি।পুরস্কার কমিটি স্বতঃ স্ফুর্তভাবে আমাকে নির্বাচিত করে”।
একটু খেয়াল করুন: ঐ একই খবরে বাংলা একাডেমির মহা পরিচালক বলেন ” মোহন রায়হানের কবিতা ও লেখালেখি সম্পর্কে কিছু অভিযোগ ওঠায় কর্তৃপক্ষ সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখার স্বার্থে সাময়িক ভাবে পুরস্কার স্থগিত করেছে।এটা পরিক্ষা নিরিক্ষা হয়ে গেলে আমরা অবিলম্বে এটা জানাব”। এ যেন পুতুল খেলা। লজ্বার কথা একজন ডিজির মুখে এ ধরনের দায়িত্ব জ্ঞানহীন কথা বলা। ডিজি মহোদয়ের কথায় উঠে এসেছে তিনি একজন অযোগ্য ব্যাক্তি বাংলা একাডেমির জন্য। এই মুহূর্তেই ওনার পরিবর্তন হওয়া বাংলা সাহিত্যের জন্য সুখকর।
সব চেয়ে দুঃখের বিষয় মোহন রায়হান বলেছেন ” প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে একটি মহল আমার পুরস্কার বাতিল করিয়েছে”।
এই ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তীব্র নিন্দা জানায়।
একজন লেখককে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ পদক ঘোষনা করেও তা প্রত্যাহার করা যেমন অপমান তেমনি নিজেদের অযোগ্যতার দায় অন্যের উপর চাপানোও সমান ভাবে লজ্বার বিষয়।
অতএব, বিষয় গুলেো নিরপেক্ষ ভাবে খতিয়ে দেখে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা জরুরি। তবেই রাষ্ট্র পুরস্কারের মার্যাদা রক্ষা পাবে এবং সাহিত্য সংস্কৃতি জগতে আস্থা ফিরে আসবে।
লেখক: মনজু খন্দকার।
কবি,গল্পকার ও সম্পাদক,’ বিজয়'(সাহিত্য পত্রিকা)
মিরপুর- – ০১,ঢাকা।





