
আনোয়ার হোসেন
ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা কামরাঙ্গীরচর, যেখানে প্রতিনিয়তই ঘটছে নানা ধরনের সামাজিক অপরাধ। অথচ এখানকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থায়ী অবকাঠামো নেই। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কামরাঙ্গীরচর থানা আজও চলছে একটি ভাড়া করা ভবনে। ফলে এখানকার পুলিশ সদস্যরা যেমন অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে দৈনন্দিন কাজ করছেন, তেমনি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ জনগণও।
কামরাঙ্গীরচর এক সময় ছিল ঢাকার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। ১৯৯০ সালের আগ পর্যন্ত এটি ছিল বুড়িগঙ্গার মাঝে একটি দ্বীপের মতো। বর্ষায় পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যেত, যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌকা। ১৯৯১ সালে ‘হাক্কুল এবাদ লোহার ব্রিজ’ নির্মাণের পর লালবাগের সঙ্গে সংযোগ ঘটে এবং পরে বুড়িগঙ্গার পাড়ঘেঁষে নির্মিত হয় নদী রক্ষা বাঁধ (বেড়িবাঁধ)।
বর্তমানে কামরাঙ্গীরচর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এলাকাটিতে গড়ে উঠেছে বহু তলা ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। তবে এর বিপরীতে রয়েছে মারাত্মক ঘনবসতি, শিশু শ্রম, বাল্যবিবাহ, মাদক ও কিশোর গ্যাং-এর মতো অপরাধ।
এই বাস্তবতায় কামরাঙ্গীরচর থানার কার্যক্রমে আধুনিকতা ও স্থায়িত্ব আনার প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবী এলাকাবাসীর।





