
নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারতের সংবাদমাধ্যম জি ২৪ ঘণ্টাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি যদি সরকার গঠন করে তিনি আশা করবেন তারা আওয়ামী লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে। শেখ হাসিনার ভাষায়, প্রকৃত বিরোধী দল ছাড়া সংসদ কখনও সংসদ হতে পারে না। তিনি বলেন, বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সংসদীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে এবং সেটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক রীতি। শক্তিশালী বিরোধিতা শাসনব্যবস্থাকে আরও মজবুত করে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নিজের দেশে ফেরা নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফিরে তার প্রথম এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হবে সংবিধানসম্মত শাসনব্যবস্থা এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা। তিনি দাবি করেন, গত কয়েক মাস ধরে দেশ কার্যত আইনের বাইরে চলছে। তার ভাষায়, মব সন্ত্রাস, বিচারবহির্ভূত গ্রেফতার এবং গণহারে আটক বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, এখনো প্রায় এক লক্ষ বাহান্ন হাজার মানুষ মিথ্যা রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দি। তাদের অনেকেই নির্যাতনের শিকার বলে তিনি দাবি করেন। তাদের অবিলম্বে মুক্তি জরুরি বলেও তিনি বলেন।
সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রধান অর্থনীতি প্রসঙ্গে বলেন, দ্রুতগতির অর্থনীতি থমকে গেছে এবং বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় বন্ধ। যুবসমাজ, কৃষক ও শ্রমিক কারও জন্যই কাজ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ ভিত্তি আক্রান্ত এবং সংখ্যালঘুরা প্রতিদিন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
চরমপন্থী শক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যাদের অনেকের সঙ্গে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের যোগ রয়েছে তারা আজ সম্পূর্ণ মুক্ত। প্রকাশ্যেই তারা নিজেদের অপরাধের কথা স্বীকার করছে বলেও তিনি দাবি করেন। তার মতে, এই পরিস্থিতি বদলাতে হলে গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট সম্পন্ন সরকার দরকার।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ও দল পুনর্গঠন নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ কোনও পরিবারের সম্পত্তি নয়। এটি লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশির দল যারা ১৯৭১ এর আদর্শে বিশ্বাস করেন। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কণ্ঠস্বর এবং ডিজিটাল যুগ বোঝা নেতৃত্ব জরুরি। তবে দল নিষিদ্ধ অবস্থায় এবং হাজার হাজার কর্মী কারাগারে থাকার পরিস্থিতিতে প্রকৃত পুনর্গঠন সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গত এক বছর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দূর থেকে দেখেছেন অর্থনীতি, সম্প্রীতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। এতে তার যন্ত্রণা হয়েছে। তবে তিনি বলেন, নির্যাতন ও কারাবাসের মধ্যেও দলের কর্মীরা বিশ্বাস ছাড়েননি। সাংবাদিকরা ভয় উপেক্ষা করে সত্য লিখেছেন এবং সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে মুখ খুলেছেন। এই যোগাযোগই তাকে শক্তি দেয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।





