গোবর ও কেঁচো সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী পাথরঘাটার হাসিব মিয়া

Date:

spot_img

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

চাকরির পেছনে না ছুটে গরুর খামার ও কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) উৎপাদনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরলাঠিমারা গ্রামের হাসিব মিয়া। ছয়টি গরু নিয়ে খামার পরিচালনার পাশাপাশি তিনি উৎপাদন করছেন জৈব সার। নিজের কৃষিকাজে ব্যবহারের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত সার বাজারজাত করেও আয় করছেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশবান্ধব কৃষি সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ মানুষের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিচালিত LED 3D Solution (Development, Demonstration & Dissemination of Climate Action) উদ্যোগের আওতায় ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে সহায়তা পেয়েছেন হাসিব মিয়া। ২০২৬ সালের মে মাসে পিসিআরসিবি প্রকল্প ফেইজ-২, সিসিডিবি, পাথরঘাটা, বরগুনার মাধ্যমে তিনি এ সহায়তা পান। প্রকল্পটি অর্থায়ন করছে জার্মানির ব্রেড ফর দ্য ওয়ার্ল্ড (Bread for the World)।

হাসিব মিয়া(২২) ছগীর গোলদারের ছেলে। তিনি ২২টি চারি বা উৎপাদন ইউনিটের মাধ্যমে কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি চারি থেকে মাসে প্রায় ১০ থেকে ১২ কেজি এবং বছরে প্রায় ১০০ কেজি সার উৎপাদিত হয়। প্রতি চারির উৎপাদিত সারের বার্ষিক আনুমানিক মূল্য ১ হাজার ২০০ টাকা হিসেবে ২২টি চারি থেকে বছরে প্রায় ২৬ হাজার ৪০০ টাকার সার উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

উৎপাদিত জৈব সার নিজের কৃষিজমিতে ব্যবহার করছেন হাসিব। এতে জমির জন্য প্রয়োজনীয় জৈব সারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত সার বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। গরুর গোবরের মতো সহজলভ্য কাঁচামাল কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগ তার আয়ের নতুন পথ খুলে দিয়েছে।

হাসিবের খামারে রয়েছে ছয়টি গরু। খামারে স্থাপন করা হয়েছে একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। এর মাধ্যমে ছয় সদস্যের পরিবারের রান্নার কাজ সম্পন্ন করা হয়। ফলে রান্নার জ্বালানির বিকল্প উৎস হিসেবে বায়োগ্যাস ব্যবহারের পাশাপাশি গোবরকে সম্পদে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হয়েছে। খামারের দুধ বিক্রি থেকেও আয় করছেন তিনি।

হাসিব মিয়ার এই উদ্যোগ শুধু তার নিজের পরিবারের স্বাবলম্বী হওয়ার পথ তৈরি করছে না, বরং স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্যও সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিচ্ছে। গরুর খামার, দুধ উৎপাদন, বায়োগ্যাস এবং কেঁচো সার উৎপাদন—এই চারটি কার্যক্রমকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা গেলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

স্থানীয়ভাবে কয়েকশ পরিবার এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদনে ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ, কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া গেলে এ খাত আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিপন চন্দ্র ঘোষ বলেন, পাথরঘাটা উপজেলায় ধীরে ধীরে বেকার যুবকেরা গরুর খামার, কেঁচো সার উৎপাদন ও দুধ উৎপাদনে এগিয়ে আসছেন। কৃষি অফিস থেকে খামারিদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁদের জন্য কৃষি অফিসের দরজা সব সময় খোলা। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারাও নিয়মিত খামারি ও কৃষকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

সঠিক প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে হাসিব মিয়ার মতো আরও অনেক তরুণ কৃষিভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারেন। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব কৃষি সম্প্রসারণ ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বেকারত্ব কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এ ধরনের উদ্যোগ।

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

বাচসাসের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট ২০ নভেম্বর

এম.আর.জে শান্ত: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের...

কমিশনার মামুনের পিতার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও বংশাল থানা...

আগামী তিন বছরে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

বাগেরহাট প্রতিনিধি আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশে এক লাখ নতুন...

খুলনায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কেসিসির অভিযান, ভাঙা হলো অবৈধ দোকানপাট

খুলনা প্রতিনিধি খুলনা নগরীর ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ...