গ্রাম আদালতে যেসব বিরোধের নিষ্পত্তি হয় না, জানানো হলো পাথরঘাটায় সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে

Date:

spot_img

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

গ্রাম আদালতের এখতিয়ার, আবেদন দাখিলের নিয়ম, বিচারপ্রক্রিয়া ও জরিমানার বিধান সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বরগুনার পাথরঘাটায় সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের মিলনায়তনে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ছগির আলম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং গ্রাম আদালতের পাথরঘাটা উপজেলা সমন্বয়কারী মো. সুজন মিয়া।

অনুষ্ঠানে গ্রাম আদালতে কোন ধরনের বিরোধের নিষ্পত্তি করা যায় এবং কোনগুলো এর এখতিয়ারবহির্ভূত, তা তুলে ধরা হয়। দেনমোহর, অপহরণ, ডাকাতি, যৌতুক, বহুবিবাহ, তালাক, নারী ও শিশু নির্যাতন, দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধার, রক্তপাত ঘটেছে এমন ঘটনা, স্থাবর সম্পত্তির স্বত্বাধিকার ও অভিভাবকত্বসংক্রান্ত বিরোধসহ নির্ধারিত সীমার বাইরের আর্থিক বিরোধ গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তি করা যায় না বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

গ্রাম আদালতে আবেদন করার নিয়ম সম্পর্কে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করে যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। পরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন দাখিল করতে হবে। আবেদন দাখিলের সময় ফৌজদারি মামলার জন্য ১০ টাকা এবং দেওয়ানি মামলার জন্য ২০ টাকা ফি দিয়ে রসিদ সংগ্রহ করতে হয়। পাশাপাশি বিরোধের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে গ্রাম আদালত গঠনের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে জানানো হয়, একজন চেয়ারম্যান এবং উভয় পক্ষের মনোনীত দুজন করে মোট পাঁচজন সদস্য নিয়ে গ্রাম আদালত গঠিত হয়। নারী-সংশ্লিষ্ট মামলায় প্যানেল সদস্য হিসেবে নারীর অংশগ্রহণের বাধ্যবাধকতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া মিথ্যা মামলা দায়ের, সমন অমান্য এবং গ্রাম আদালত অবমাননার ক্ষেত্রে জরিমানার বিধান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। মিথ্যা মামলা দায়েরের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা এবং সমন অমান্য বা আদালত অবমাননার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে বলে জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম সময়ে ও স্বল্প খরচে প্রতিকার পেতে পারেন। এতে উচ্চতর আদালতে মামলার চাপ কমানোর পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা পাওয়া সম্ভব।

স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের মাধ্যমে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

বাচসাসের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট ২০ নভেম্বর

এম.আর.জে শান্ত: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের...

কমিশনার মামুনের পিতার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও বংশাল থানা...

আগামী তিন বছরে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

বাগেরহাট প্রতিনিধি আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশে এক লাখ নতুন...

খুলনায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কেসিসির অভিযান, ভাঙা হলো অবৈধ দোকানপাট

খুলনা প্রতিনিধি খুলনা নগরীর ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ...