
৬০ কোটি টাকা ঋণ, ২৪ মাসে সার্ভিস চার্জসহ ১৬৮ কোটি পরিশোধের শর্ত • ব্ল্যাংক চেক দেওয়ার দাবি • পদায়নের সঙ্গে আর্থিক চুক্তির যোগসূত্রের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক ও উপসচিব মো. রেজাউল বারীকে ঘিরে ১৬৮ কোটি টাকার আর্থিক চুক্তির অভিযোগ তুলেছেন সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর। অভিযোগের সঙ্গে ‘সম্মতিপত্র’ শিরোনামের একটি নথির ছবিও প্রকাশ করেছেন তিনি।
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে জাওয়াদ নির্ঝর দাবি করেন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদ থেকে সম্প্রতি রাজউকের পরিচালক হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন উপসচিব রেজাউল বারী।

জাওয়াদের প্রকাশ করা নথিতে মো. রেজাউল বারীর নাম এবং তাঁর পরিচয় হিসেবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক উল্লেখ রয়েছে। নথির একাধিক ব্যক্তিগত তথ্য কালো করে আড়াল করা হয়েছে।
প্রকাশিত ‘সম্মতিপত্রে’ বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ৬০ কোটি টাকা গ্রহণের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। ওই অর্থ গ্রহণের পর ২৪ মাসের মধ্যে ৪০ শতাংশ সার্ভিস চার্জসহ মোট টাকার দ্বিগুণ হিসাবে সর্বমোট ১৬৮ কোটি টাকা পরিশোধের কথা নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধে ঋণ প্রদানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্মতিপত্রের নিচে মো. রেজাউল বারী নামে একটি স্বাক্ষর ও সিল রয়েছে এবং তারিখ হিসেবে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে।

জাওয়াদ নির্ঝর তাঁর পোস্টে দাবি করেন, এই চুক্তির বিপরীতে সোনালী ব্যাংকের কয়েকটি ব্ল্যাংক চেকও দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ধরনের ‘সম্মতিপত্র’ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যাওয়ার ক্ষেত্রে চুক্তিপত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, বড় অঙ্কের অর্থের এই চুক্তির মাধ্যমে রেজাউল বারী রাজউকের পরিচালক পদে পদায়ন পেয়েছেন।

জাওয়াদ নির্ঝর আরও দাবি করেন, তাঁর প্রকাশ করা সম্মতিপত্রটি একাধিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি পুরো বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
জাওয়াদের পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে রেজাউল বারীর বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট অর্থ প্রদানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যও ওই পোস্টে নেই।





