
বিশেষ প্রতিনিধি
নওগাঁর আত্রাইয়ের সমাস পাড়া গ্রামে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১২ বছরের এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ে আয়োজনের অভিযোগে তিন জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। বরকে আটকের পরে নিয়ে আসার সময় সরকারি কাজে বাধা ও তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শনিবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার সমাসপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটলে রাত ১০ টার দিকে এ দণ্ডাদেশ দেন।
দণ্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন, সমাসপাড়া এলাকার করম আলী শেখের ছেলে মান্নান শেখকে ১ বছর, ইয়ানুস শেখের ছেলে মো. রাব্বি শেখকে ৬ মাদ এবং মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে মো. মাহাতাব আলীকে ১মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
জানা যায়, ১২ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ে আয়োজনের তথ্য পেয়ে সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান। এ সময় বাল্যবিয়ে আয়োজনের সত্যতা পেলে বর আল আমিন এবং কনের বাবা-মাকে বিয়ে বাড়িতে আসতে বলা হয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও বর ও কনের পক্ষের কেউ সেখানে না আসায় বর ও কনেকে আটক করা হয়। পরে
তাদের নিয়ে গাড়ি বিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় বরের পরিবারের লোকজনসহ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন গাড়িটি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেন। একই সাথে তাদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং মোবাইল কোর্টে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্য, পেশকার ও গ্রাম পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিষয়টি থানার অফিসার ইনচার্জকে জানানো হলে তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে বর-কনেসহ প্রথমে তিনজনকে আটক করা হয়। পরবর্তী সময়ে আরও চারজনকে আটক করা হয়।
এরপর রাতে মোবাইল কোর্টে বাল্যবিবাহ আয়োজনের অপরাধে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী বরের বাবা মো. ইয়ানুস শেখকে ২০ হাজার টাকা এবং কনের বাবা জুয়েলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে তাদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে বাল্যবিবাহের সঙ্গে জড়িত না হওয়ার বিষয়ে মুচলেকা নেওয়া হয়। এছাড়া সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং মোবাইল কোর্টে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্য, পেশকার ও গ্রাম পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধের পাশাপাশি সরকারি কাজে বাধা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।





