
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলমকে বিএনপি নেতা দাবি করে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
বুধবার (২৯ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে মোট ৯টি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দাবি, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া উচিত নয় এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারি দলের প্রার্থীদের সুবিধা দিতে তাকে বিশেষ দায়িত্বে আনা হয়েছে।
জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, কমিশন তাদের জানিয়েছে যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার রাজনৈতিক পরিচয় আগে জানা ছিল না, সম্প্রতি গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তবে এ বিষয়ে কমিশন নিজেদের একপ্রকার অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্য ঘোষণার একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। অথচ দেশে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়ে আসছেন। অংশীজন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিরোধিতা করেছে জামায়াত।
তিনি বলেন, সংবিধানের ২৬ ও ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের অধিকার এবং রাজনীতি করার সুযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল রাখা উচিত। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা শিক্ষার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে মত দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, সরকার বা আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের পদধারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণার দাবিও জানায় জামায়াত। গোলাম পরওয়ার বলেন, নিষিদ্ধ দলের পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এক ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম, যা বন্ধ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও উন্নয়ন সংস্থায় রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া প্রশাসক ও কর্মকর্তাদেরও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত। তার অভিযোগ, এসব পদে নিয়োগ দিয়ে জনপ্রিয়তা তৈরির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা পরবর্তীতে নির্বাচনে দলীয় সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে।





