
সৈয়দ নুর আহসান, গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
পরিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের অন্যতম বৃহৎ উদ্যোগ ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান, এমপি।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের নবখননকৃত সরিকল-বাটাজোর খালের পাড়ে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তিনি নিজ হাতে গাছের চারা রোপণ করে এই মহাকায় সবুজ অভিযানের সূচনা করেন।
অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছায় স্বাগত জানান। পরে তিনি খালের পাড় ঘুরে দেখেন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় দেশব্যাপী ব্যাপক বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশকে জলবায়ু সহনশীল ও বাসযোগ্য রাখতে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। খাল, নদী ও সড়কের পাড়জুড়ে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা হবে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের মাধ্যমে দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”
ফ্যামিলি কার্ড উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময়
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি পরিবারের খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কোনো মানুষ যেন পিছিয়ে না থাকে, সেটিই আমাদের অঙ্গীকার।”
জনসমাগমে উৎসবের আমেজ
বাটাজোর ইউনিয়নের এই কর্মসূচিতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে গোটা গৌরনদী এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সড়কের দুই পাশে লাগানো হয় বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা, সাজানো হয় তোরণ ও ব্যানার।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খাল পুনঃখননের পর খালের পাড়ে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে এবং ভবিষ্যতে ভাঙন রোধ ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী এলাকাবাসীর উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর এই সফরকে গৌরনদীবাসী পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ততার এক স্মরণীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।





