
খুলনা থেকে মোঃ রাজিবুল ইসলাম রাজিব
খুলনায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশে মাতৃদুগ্ধের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপুষ্টিজনিত জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি প্রতিটি শিশুকে সময়মতো সব টিকা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার দেশের প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের সম্পদ। তাই একটি উন্নত ও শক্তিশালী জাতি গড়ে তুলতে হলে শৈশব থেকেই শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে হবে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুন, কেসিসির সচিব মো. রেজা রশীদ, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মো. আকিব উদ্দিন, স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. অপর্ণা বিশ্বাস, খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডা. মো. আরিফসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এবারের জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে খুলনা মহানগরীতে মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৯৫২ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ১২ হাজার ৩৩৭ জন শিশুকে নীল রঙের ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৯৬ হাজার ৬১৫ জন শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে খুলনা সিটি করপোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডে ১ হাজার ৪২০ জন স্বেচ্ছাসেবক, ৫৮০টি ওয়ার্ডভিত্তিক কেন্দ্র, মোট ৭১০টি কেন্দ্র, ৮০টি মোবাইল কেন্দ্র, ৫০টি এনজিও পরিচালিত কেন্দ্র এবং ৬২ জন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করবেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি অপুষ্টি প্রতিরোধ ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





