
খুলনা ব্যুরো
খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকার নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমিতে শিক্ষক কর্তৃক নির্যাতনের শিকার শিশু শিক্ষার্থী ইসমাইলের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও মাথার অস্বাভাবিক ফোলাভাব নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না পরিবারের। ঘটনার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ আব্দুর রহমানকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
শনিবার (২৮ জুন) দুপুরে শিশুটির বাবা ওমর ফারুক শিকদার জানান, ইসমাইলের চোখ ও মুখে জমাট বাঁধা রক্ত এবং গলার ফোলাভাব অনেকটাই কমেছে। তবে বাম কানের ওপরে মাথার একটি অংশ এখনও অস্বাভাবিকভাবে ফুলে রয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চামড়ার নিচে রক্ত জমে যাওয়ায় এ ফোলাভাব সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসক ১৫ দিন পর পুনরায় পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “একমাত্র ছেলেকে দ্বীনি শিক্ষার জন্য মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলাম। এখন সে আগের মতো স্বাভাবিক নেই। সারাদিন বিছানায় শুয়ে থাকে, মাঝে মাঝে মায়ের সঙ্গে গল্প করে বা লুডু খেলে সময় কাটায়।”
পরিবারের দাবি, ইসমাইল ইতোমধ্যে পবিত্র কোরআনের ৯ পারা মুখস্থ করেছে। তবে পড়া ঠিকমতো না পারার অভিযোগে শিক্ষক আব্দুর রহমান প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। সর্বশেষ গত ১৭ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে নির্মমভাবে মারধরের শিকার হয় সে। এতে তার মাথা, চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
শিশুটির বাবা আরও জানান, ঘটনার দিন হাতে টাকা না থাকায় অভিযুক্ত শিক্ষকের ভাই মাসুদের কাছ থেকে প্রথমে ৫ হাজার টাকা এবং পরে চিকিৎসার জন্য আরও ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, অর্থ নেওয়ার কারণে তারা আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
এ অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, “মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তিনি আমার ছেলের বক্তব্য নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রেও স্বাক্ষর নিয়েছেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিশুকে এমন নির্যাতনের শিকার হতে না হয়।”
শনিবার দুপুরে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমির মূল ফটক বন্ধ রয়েছে এবং সেখানে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন না।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আলতাফ জানান, মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ আব্দুর রহমানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক থাকায় এখনো তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন রাতের নির্যাতনের ঘটনায় আহত ইসমাইলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরদিন শিশুটির বাবা সোনাডাঙ্গা থানায় শিক্ষক হাফেজ আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।





