
আলী কদর পলাশ
প্রিয় পাঠক,
বিশ্বকাপ মানেই আমরা গোলের গল্প শুনি, ট্রফির গল্প শুনি, বীরত্বের গল্প শুনি। কিন্তু সব বিশ্বকাপের গল্প মাঠে লেখা হয় না। কিছু গল্প লেখা হয় ড্রেসিংরুমে, কিছু লেখা হয় বন্ধুত্বের খাতায়।
১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপ। সুইডেনের মাটিতে ব্রাজিল দল। সেই দলে ছিলেন মাত্র ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর। নাম পেলে।
আজকের ফুটবল সম্রাট তখনও সম্রাট নন। তিনি ছিলেন লাজুক এক তরুণ। হাঁটুর চোট নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছিলেন। প্রথম দুটি ম্যাচও খেলতে পারেননি। চারপাশে তারকাদের ভিড়ে অনেকেই ভাবছিলেন, এত অল্প বয়সী একজন ছেলেকে কি সত্যিই বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে নামানো উচিত?
কিন্তু ব্রাজিল দলের কিছু সিনিয়র খেলোয়াড় অন্যরকম ভাবতেন। তারা পেলের মধ্যে এমন কিছু দেখেছিলেন, যা পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝানো যায় না। তারা কোচের কাছে পেলের পক্ষে কথা বলেছিলেন। অনুশীলনে তাকে সাহস দিয়েছিলেন। ভুল করলে বকেননি। বরং বলেছিলেন, মাঠে নেমে নিজের খেলাটা খেলো।
ওয়েলসের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে সুযোগ এল। পেলে গোল করলেন। সেটিই ছিল বিশ্বকাপে তার প্রথম গোল।
তারপর যেন গল্প বদলে গেল।
সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক। ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল। মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জয়।
ম্যাচ শেষে পৃথিবী দেখেছিল এক কিশোরকে কান্নায় ভেঙে পড়তে। কিন্তু সেই কান্নার আড়ালে ছিল আরও একটি গল্প। যে ছেলেটিকে সবাই নিয়ে সন্দেহ করছিল, তার ওপর কয়েকজন সতীর্থ বিশ্বাস রেখেছিলেন। সেই বিশ্বাসই হয়তো তাকে ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত করেছিল।
ফুটবল আমাদের একটি সহজ শিক্ষা দেয়। প্রতিভা গুরুত্বপূর্ণ। পরিশ্রমও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জীবনের কোনো না কোনো মোড়ে একজন মানুষের প্রয়োজন হয় এমন কিছু পথের সাথীর, যারা তার নিজের চেয়েও বেশি বিশ্বাস করে তাকে।
হয়তো এ কারণেই বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের গল্প নয়। এটি মানুষের গল্পও।
আর সেই গল্পের সবচেয়ে সুন্দর বাক্যটি হতে পারে—বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিও।
[বিদেশি পত্র পত্রিকা অবলম্বনে]





