
আঃ রাজ্জাক (রিয়াদ), রংপুর
উত্তরাঞ্চলের আট জেলাসহ বগুড়া, রাজশাহী, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর অঞ্চলের কোটি মানুষের চিকিৎসার শেষ ভরসাস্থল রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতাল। প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী চিকিৎসার আশায় এ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটে ছুটে আসেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো—যেখানে আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার কথা, সেখানে রোগীরা পড়ছেন সীমাহীন ভোগান্তিতে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা অত্যাধুনিক রোগনির্ণয় যন্ত্রপাতির অধিকাংশই বছরের পর বছর অচল হয়ে পড়ে আছে। প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি, প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা এবং সক্রিয় দালালচক্রের কারণে উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম এ হাসপাতাল এখন বহুমাত্রিক সংকটে জর্জরিত।
কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুটি আলোচিত ঘটনা হাসপাতালটির নাজুক বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ, মৃত রোগীর মরদেহ হস্তান্তর নিয়ে তীব্র বিতর্ক, চিকিৎসকদের আন্দোলন ও জরুরি বিভাগের সেবা বন্ধ থাকার ঘটনা; অন্যদিকে এর ঠিক পরদিন হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে তিন সংসদ সদস্যের সামনে উঠে আসে কোটি কোটি টাকা মূল্যের চিকিৎসা যন্ত্রপাতি অচল থাকার চিত্র, জনবল সংকট, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার ভয়াবহ বাস্তবতা। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এই দুই ঘটনায় উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বহুদিনের সংকট যেন একসঙ্গে উন্মোচিত হয়েছে।
রবিবার (১৪ জুন) সকালে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলালের নেতৃত্বে তিন সংসদ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে এমন উদ্বেগজনক চিত্র প্রত্যক্ষ করেন। পরিদর্শন শেষে তারা হাসপাতালের বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেন।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রব্বানী এবং রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী। এ সময় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান, বিভাগীয় প্রধান, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুর পর শুরু হয় উত্তেজনা
গত ১৩ জুন ভোরে রংপুর নগরীর নিউ জুম্মাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাহবুবুর রহমানের স্ত্রী নুর নাহার বেগম (৫৫) অসুস্থ অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি হন।পরিবারের দাবি, রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত অক্সিজেন ও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ভর্তি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা বলা হয়। এর মধ্যেই রোগীর মৃত্যু ঘটে। মায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েন তার ছোট ছেলে রিফাত হোসেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই এই মৃত্যু ঘটেছে। এ নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের দাবি, রোগীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল এবং চিকিৎসকদের কোনো অবহেলা ছিল না। বরং চিকিৎসককে অকারণে মারধর করা হয়েছে।
চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগ
ঘটনার একপর্যায়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাঈম বকশীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে রিফাত হোসেনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি দ্রুত হাসপাতালজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।চিকিৎসকদের ভাষ্য, কর্মরত চিকিৎসকের ওপর হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, বরং পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর আঘাত। তাই তারা হামলাকারীর শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নামেন।
দুই ঘণ্টা বন্ধ জরুরি বিভাগ
হামলার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগের সেবা কার্যত বন্ধ থাকে। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেক রোগীকে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে হয়। জরুরি বিভাগের সামনে উদ্বিগ্ন রোগী ও স্বজনদের ভিড় দেখা যায়।
মরদেহ নিয়ে নতুন বিতর্ক
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে নুর নাহার বেগমের মরদেহ হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে। পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর পর মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর না করে দীর্ঘ সময় হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। এমনকি একপর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পরও মরদেহ নামিয়ে মর্গে পাঠানো হয়। মৃতের স্বজন নুরুজ্জামান রিন্টু কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ভোর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা মায়ের মুখ দেখতে পারিনি। আমরা শুধু মায়ের মরদেহ চাই। তাকে দাফন করতে চাই। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে।” এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্বজনরা হাসপাতাল এলাকায় বিক্ষোভ করেন এবং মহাসড়ক অবরোধেরও চেষ্টা করেন।
কান ধরে ওঠবস, ভাইরাল ভিডিও
ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল অভিযুক্ত রিফাত হোসেনকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চিকিৎসকদের আন্দোলনের মুখে হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে অবস্থানরত রিফাত হোসেনকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। একপর্যায়ে তাকে কান ধরে ওঠবস করতে দেখা যায়। পরবর্তীতে তার মায়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। চিকিৎসকদের ওপর হামলার নিন্দা যেমন এসেছে, তেমনি একজন শোকাহত ছেলেকে প্রকাশ্যে অপমান করার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
পরিচালকের বক্তব্য
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, “রোগীকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজে চিকিৎসকদের কোনো অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং কর্তব্যরত চিকিৎসককে মারধর করা হয়েছে। ”মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“মরদেহ আটকে রাখা হয়নি। নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু সময়ের জন্য মর্গে রাখা হয়েছিল। পরে যথাযথভাবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
অচল যন্ত্রপাতিতে থমকে রোগনির্ণয় সেবা
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্যরা হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ, জরুরি ইউনিট, রোগনির্ণয় কেন্দ্র এবং যন্ত্রপাতি সংরক্ষণাগার ঘুরে দেখেন। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, হাসপাতালের ২৬টি এক্স-রে মেশিনের মধ্যে ২৪টিই অচল। ৩টি সিটি স্ক্যান মেশিনের মধ্যে ২টি, ৩টি এমআরআই মেশিনের মধ্যে ২টি এবং ১৩টি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনের মধ্যে ১০টিই দীর্ঘদিন ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, অচল এক্স-রে মেশিনগুলোর মধ্যে অন্তত ২০টি আর মেরামতযোগ্য নয়। একইভাবে ২টি সিটি স্ক্যান, ২টি এমআরআই এবং ৮টি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনও সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে।
ফলে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চিকিৎসকরা পরীক্ষা দিলেও হাসপাতালের ভেতরে সেবা না পেয়ে রোগীদের ছুটতে হচ্ছে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।
সরকারি হাসপাতালে এসে বেসরকারি খরচ
সরেজমিনে কথা হয় চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে। তাদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেও অধিকাংশ পরীক্ষা বাইরে করতে হচ্ছে। এতে একদিকে চিকিৎসা ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে সময়মতো রোগ নির্ণয়ও সম্ভব হচ্ছে না।
বদরগঞ্জ থেকে আসা আমজাদ নামে এক রোগীর স্বজন টুলু মিয়া বলেন, “সরকারি হাসপাতালে এসেও যদি সব পরীক্ষা বাইরে করতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের লাভ কী? একটি সিটি স্ক্যান করাতে কয়েক হাজার টাকা লাগে। গরিব মানুষের পক্ষে এটা বহন করা কঠিন।”
দিনাজপুর থেকে আসা রফিকুল নামে এক রোগী বলেন, “ডাক্তার পরীক্ষা দিয়েছেন, কিন্তু হাসপাতালের মেশিন নষ্ট। বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে বলা হয়েছে। টাকা না থাকলে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়।”
সুমাইয়া নামে এক রোগীর মেয়ে বলেন,“হাসপাতালের ভেতরে সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে। অনেক সময় রোগীরা বুঝতে না পেরে দালালদের খপ্পরে পড়ে যায়।”
ধুলোর স্তূপে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি
পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, অনেক কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম। কোথাও ধুলোর স্তর জমেছে, কোথাও যন্ত্রপাতি মরিচা পড়তে শুরু করেছে। কয়েকটি কক্ষে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও দুর্গন্ধও লক্ষ্য করেন সংসদ সদস্যরা।
কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা এসব যন্ত্রপাতি কার্যত অযত্নে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তারা। সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় জনবল থাকলে অনেক যন্ত্রপাতিই সচল রাখা সম্ভব হতো।
জনবল সংকট বড় বাধা
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক, নার্স, রেডিওলজি টেকনোলজিস্ট, মেডিকেল টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য সহায়ক কর্মচারীর ঘাটতি রয়েছে। ফলে বিদ্যমান যন্ত্রপাতিরও সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; সেগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি।
দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ রোগীরা
পরিদর্শনকালে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগে হাসপাতালের সক্রিয় দালালচক্রের বিষয়টিও সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের কিছু অসাধু ব্যক্তি রোগীদের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছে।
অনেক রোগী অভিযোগ করেন, হাসপাতালের যন্ত্রপাতি অচল থাকার সুযোগে এসব চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতাকে পুঁজি করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী লাভবান হচ্ছে।
‘কোটি টাকার যন্ত্রপাতি অকেজো পড়ে থাকা উদ্বেগজনক’— মাহবুবুর রহমান বেলাল
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন,
“রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উত্তরবঙ্গের মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল। কিন্তু দীর্ঘদিনের জনবল সংকট, অব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় তদারকির অভাবে হাসপাতালের সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। জনবল সংকটের কারণে অনেক মেশিন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা যাচ্ছে না। এ সুযোগে দালালচক্র সক্রিয় হয়েছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছি।”
তিনি আরও জানান, হাসপাতালের সমস্যাগুলো ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
‘সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে’— গোলাম রব্বানী
রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, “স্বাস্থ্যখাতের এই সংকট শুধু রংপুরের নয়, সারা দেশের সমস্যা। আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। তিনি অবকাঠামোগত ও জনবল সংকট সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।”
তিনি বলেন, “আগামী অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের পর ধাপে ধাপে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস পাওয়া গেছে। রমেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সচল করা, নতুন জনবল নিয়োগ এবং দালালচক্র নির্মূলে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।”
‘স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখতে হবে’— রায়হান সিরাজী
রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, “রংপুর বিভাগের মানুষের চিকিৎসাসেবার বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে রংপুরে এসে নিজ চোখে পরিস্থিতি দেখার আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি বলেন, “কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা যন্ত্রপাতি অচল পড়ে থাকায় একদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।”
আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে সমাধান
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, অচল যন্ত্রপাতি অপসারণ ও নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপনের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
ফলে একদিকে পুরোনো যন্ত্রপাতি জায়গা দখল করে পড়ে আছে, অন্যদিকে নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপনের প্রক্রিয়াও থমকে রয়েছে।
মানবিক আচরণ নিয়েও প্রশ্ন
পরিদর্শনকালে সম্প্রতি এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মরদেহ আটকে রেখে মৃত ব্যক্তির ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগের ঘটনাও আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ সদস্যরা বলেন, চিকিৎসাসেবার সঙ্গে মানবিকতা ও পেশাগত নৈতিকতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাড়বে স্বাস্থ্য সংকট
বিশেষজ্ঞদের মতে, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি হাসপাতালের সংকট নয়; এটি উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি। প্রতিদিন কয়েক হাজার রোগী চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। তাই অচল যন্ত্রপাতি দ্রুত প্রতিস্থাপন, জনবল নিয়োগ, দালালচক্র নির্মূল, প্রশাসনিক জটিলতা দূর এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও গভীর সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।





