খুলনায় শীর্ষ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা: অভিযানের ঘোষণা, কিন্তু মাঠে নেই দৃশ্যমান তৎপরতা

Date:

spot_img

বিশেষ প্রতিবেদক, খুলনা

দেশজুড়ে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে খুলনায় শীর্ষ অপরাধীদের তালিকা প্রস্তুত করেছে র‌্যাব-৬। সংস্থাটির প্রাথমিক তালিকায় স্থান পেয়েছে ৩৩ জন চিহ্নিত অপরাধী। এর মধ্যে রয়েছেন শীর্ষ চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এবং বিভিন্ন অপরাধচক্রের সক্রিয় সদস্যরা। তবে তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকা আরও সম্প্রসারিত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে “আনবায়াসড” বা নিরপেক্ষভাবে তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর প্রস্তুতিও চলছে। নির্দেশনা পেলেই গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।
র‌্যাব-৬ খুলনার অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ বলেন,
“প্রাথমিকভাবে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এখানে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না। তালিকাভুক্ত যে কাউকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

কেএমপির আগের তালিকা, কিন্তু অভিযান নেই
এর আগে গত মার্চ মাসে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) নগরীর আট থানাভিত্তিক অপরাধীদের পৃথক তালিকা তৈরি করে। সেখানে ২৮ জন শীর্ষ চাঁদাবাজ, ৪৭ জন সন্ত্রাসী এবং প্রায় ৪০০ মাদক কারবারিসহ মোট ৪৭৫ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তালিকায় রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা অপরাধী চক্র ছাড়াও খুলনার অন্তত আটটি সক্রিয় সন্ত্রাসী সংগঠনের নাম উঠে আসে। যদিও ঈদুল ফিতরের পর যৌথ অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো দৃশ্যমান অভিযান দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

নগরজুড়ে মাদক, দখল ও ‘কর্তৃত্ব যুদ্ধ’
স্থানীয়দের অভিযোগ, তালিকা তৈরির পরও অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমেনি। বরং নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং খুনোখুনির ঘটনা বেড়েই চলেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ‘কর্তৃত্ব যুদ্ধ’-এ জড়িয়ে পড়ছে। এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

নাগরিক সমাজের উদ্বেগ

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব বাবুল হাওলাদার অভিযোগ করেন, “শুধু তালিকা তৈরি করে জনগণকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে, কিন্তু মাঠে কার্যকর অভিযান দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসন চাইলে তালিকাভুক্ত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে অনেক সময় অপরাধীরা আগাম সতর্ক হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বলেও জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় তৎপরতা

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধীদের তথ্য সংগ্রহ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশও তাদের প্রস্তুত করা তালিকা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে।

এখন দেখার বিষয়—তালিকাভুক্ত শীর্ষ অপরাধীদের বিরুদ্ধে ঘোষিত অভিযান বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং নগরবাসী কবে দৃশ্যমান স্বস্তি পায়।

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

কমিশনার মামুনের পিতার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও বংশাল থানা...

আগামী তিন বছরে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

বাগেরহাট প্রতিনিধি আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশে এক লাখ নতুন...

খুলনায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কেসিসির অভিযান, ভাঙা হলো অবৈধ দোকানপাট

খুলনা প্রতিনিধি খুলনা নগরীর ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ...

হোমনায় কৃষিজমি থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, দুই ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা!

বিশেষ প্রতিনিধি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার মাথাভাঙ্গা ইউনিয়নের ছয়ফুল্লাকান্দি এলাকায়...