
রংপুর প্রতিনিধি
রংপুরের বদরগঞ্জে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী আলবিনা সরেন বদরগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে তার স্বামী শ্রী মাইকেল হেমরনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযুক্ত স্বামী অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দরিদ্র পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে আলবিনা সরেন জীবিকার তাগিদে ঢাকায় গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি নেন। সেখানে কাকতালীয়ভাবে তার দূরসম্পর্কের আত্মীয় মাইকেল হেমরনের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে উভয়ের সম্মতিতে তারা ২০২২ সালের ২৮ জুন ঢাকায় প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট/নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। খ্রিষ্টান ধর্মীয় বিধান অনুসারেও তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিয়ের পর ঢাকায় ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে প্রায় তিন বছর সংসার করেন তারা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছোটখাটো বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী মাইকেল তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন আলবিনা। প্রথমদিকে পারিবারিক কলহ ভেবে বিষয়টি সহ্য করলেও পরে তিনি জানতে পারেন, তার স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এতে বাধা দিলে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।ভুক্তভোগীর দাবি, তার শাশুড়ি বিষয়টি জানার পরও ছেলেকে শাসন না করে বরং উসকানি দেন। এর ফলে স্বামী আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মাইকেল তাকে মারধর করেন এবং হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় বাসার অন্য লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাকে রক্ষা করেন। ঘটনার পরদিনই আলবিনা বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পরবর্তীতে স্বামীকে যোগাযোগ করে তাকে নিতে বললেও তিনি অস্বীকৃতি জানান। পরে গত ১৯ এপ্রিল স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে স্বামীর বাড়িতে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি উপস্থিত হননি। বরং মোবাইল ফোনে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও সংসার না করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এ বিষয়ে আলবিনা সরেন সাংবাদিকদের বলেন,আমরা কোর্ট ম্যারেজ করেছি। তিন বছর একসঙ্গে সংসার করেছি। আমি তার বৈধ স্ত্রী। এখন সে আমাকে অস্বীকার করছে এবং নির্যাতন করছে।অন্যদিকে অভিযুক্ত শ্রী মাইকেল হেমরন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি তাকে বিয়ে করিনি। সে আমার ছবি ব্যবহার করে ভুয়া কাগজ তৈরি করেছে। জোর করে কেউ কারো স্ত্রী হতে পারে না। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, অন্যত্র তার বিয়ের কথাবার্তা চলছিল, সেই সময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান জাহিদ সরকার বলেন, ভুক্তভোগী নারীর একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।





