চট্টগ্রামের জুলাই স্মৃতি উদ্যান এখন নগরবাসীর আশ্রয়স্থল

Date:

spot_img

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

নগর জীবনের একঘেয়েমি আর হাঁসফাঁস করা ব্যস্ততার মাঝে যখন মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখনই এক টুকরো প্রশান্তি হয়ে ধরা দেয় জুলাই স্মৃতি উদ্যান। চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এই উদ্যান এখন নগরবাসীর জন্য এক অনন্য আশ্রয়স্থল।

নগরায়নের চাপে শহরে ছেলে-মেয়েদের জন্য খোলা জায়গা এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। ঠিক সেই বাস্তবতায় জুলাই স্মৃতি উদ্যান হয়ে উঠেছে সবার জন্য এক উন্মুক্ত সবুজ প্রান্তর, যেখানে শিশুদের হাসি, তরুণদের প্রাণচাঞ্চল্য আর বয়স্কদের নিরিবিলি সময় কাটানোর সুযোগ একসঙ্গে মিলে যায়।

সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ প্রান্তর, ছায়াময় গাছপালা আর খোলা আকাশ-সব মিলিয়ে উদ্যানটি হয়ে উঠেছে সবার জন্য উন্মুক্ত এক প্রাণের জায়গা। প্রতিদিন বিকেল গড়াতেই এখানে ভিড় জমে নানা বয়সী মানুষের। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠে, আবার কেউ নিরিবিলি বসে কাটিয়ে দেয় নিজের মতো সময়।

উদ্যানজুড়ে দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন স্থানে বসার সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিশুদের জন্য রয়েছে খেলাধুলার আকর্ষণীয় নানা উপকরণ, যা তাদের সময়কে করে তোলে আরও আনন্দময়। পাশাপাশি এখানে নির্মিত হয়েছে একটি দৃষ্টিনন্দন অ্যাম্ফিথিয়েটার, যেখানে মাঝে মাঝে সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়।

দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন শৌচাগারের ব্যবস্থাও রয়েছে। উদ্যানের মাঝখানে স্থাপিত পানির ফোয়ারা পরিবেশে যোগ করেছে নান্দনিক সৌন্দর্য, আর চারপাশে তৈরি করা সুপরিকল্পিত ওয়াকওয়ে হাঁটাহাঁটির জন্য এনে দিয়েছে স্বস্তি ও প্রশান্তি। শুধু বাহারি ফুলই নয়, এখানে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফলজ গাছ, যা উদ্যানকে করেছে আরও সবুজ, সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত।

জানা গেছে, নগরের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় ১৯৫৪ সালে ‘পাঁচলাইশ পার্ক’ নামে উদ্যানটির যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগ থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০০২ সালে সিটি করপোরেশন এর নাম পরিবর্তন করে ‘জাতিসংঘ পার্ক’ রাখে। সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে উদ্যানটির নাম রাখা হয়েছে ‘জুলাই স্মৃতি উদ্যান’। নামের এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এটি শুধু একটি বিনোদনকেন্দ্র নয়, বরং এক ঐতিহাসিক ও আবেগঘন স্মৃতির প্রতীক হিসেবেও নতুন পরিচয় পেয়েছে।

পরিকল্পিত নগর জীবনে এমন খোলা সবুজ জায়গার গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। মানসিক প্রশান্তি, সামাজিক বন্ধন এবং সুস্থ জীবনযাপনের জন্য এই ধরনের উদ্যান অপরিহার্য।

উদ্যানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী মো. মিশকাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রাম শহরের ব্যস্ততার মধ্যে এমন খোলামেলা ও সবুজ পরিবেশ খুবই প্রয়োজন। বিকেলে এখানে এলে মনটা অনেক ভালো হয়ে যায়। পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি বেশ সুন্দর ও স্বস্তিদায়ক।”

দর্শনার্থীদের জন্য উদ্যানটি প্রতিদিন বিকেল ৩:০০টা থেকে সন্ধ্যা ৬:০০টা পর্যন্ত খোলা থাকে; তবে প্রতি বুধবার এটি বন্ধ থাকে। দিন শেষে সূর্য যখন ধীরে ধীরে অস্ত যায়, তখনও উদ্যানজুড়ে ভেসে থাকে মানুষের পদচারণা, হাসি আর গল্পের মৃদু প্রতিধ্বনি-যেন এই সবুজের বুকেই শহর খুঁজে পায় তার ক্লান্ত দিনের পরম শান্তি।

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

খুলনায় টাইগার গার্ডেন হোটেলে এসি বিস্ফোরণে আগুন, পুড়ে গেছে কক্ষের সব মালামাল

এম রোমানিয়া, খুলনা ব্যুরো খুলনায় নগরীর শিববাড়ি মোড়ের টাইগার গার্ডেন...

বলিভিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ১০

বলিভিয়ায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন...

বাবার চাকুরির জন্য সন্তানের মানববন্ধন

দিনাজপুর প্রতিনিধি বাবার চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় মধ্যপাড়া গ্রানাইট...

ছিটকিনি লাগানোকে কেন্দ্র করে ববিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি 
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন একটি মেসের...