
খুলনা প্রতিনিধি
ঈদুল ফিতরের পর থেকে খুলনার ভোজ্য তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে শীর্ষ চারটি ভোজ্য তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এর ফলে সয়াবিন তেলের বোতল বাজারে সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে এবং দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রূপচাঁদা, ফ্রেশ, বসুন্ধরা ও তীর—এই চারটি কোম্পানি একটি সিন্ডিকেট গড়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ কমিয়ে বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হচ্ছে। এতে ভোক্তারা চাপে পড়ছেন এবং অনেকেই বাধ্য হয়ে নন-ব্র্যান্ড তেলের দিকে ঝুঁকছেন।
খুলনার বড় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২০৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে বোতলজাত তেলের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বর্তমানে ১ লিটার তেল ২০৫ টাকা, ২ লিটার ৪০৫ টাকা, ৩ লিটার ৬১০ টাকা এবং ৫ লিটার ৯৫৫ থেকে ৯৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ ঈদের আগে এসব পণ্যের দাম ছিল তুলনামূলকভাবে কম।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দাম বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে মূল্যবৃদ্ধি যৌক্তিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বড় বাজারের ‘মা মনষা ভান্ডার’-এর ব্যবসায়ী মৃন্ময় বণিক জানান, তিনি তীর কোম্পানির একজন পরিবেশক। ঈদের পর থেকে তার চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। প্রতিদিন ২০০ কার্টুন চাহিদার বিপরীতে তিনি পাচ্ছেন মাত্র ১০০ কার্টুন। এমনকি অগ্রিম অর্থ প্রদান করেও পূর্ণ সরবরাহ মিলছে না।
তিনি বলেন, “কোম্পানি কাঁচামালের সংকটের কথা বললেও বাস্তবে বাজারে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ কমিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে আমরা বাধ্য হয়ে নন-ব্র্যান্ড তেল বিক্রি করছি।”
এদিকে ভোক্তারা জানিয়েছেন, তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের দৈনন্দিন ব্যয় বেড়ে গেছে। তারা দ্রুত বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজার মনিটরিং জোরদার এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে।





