রংপুরে আঙুলে কালি দিলেই মিলছে জালানি তেল

Date:

spot_img

রিয়াদ ইসলাম, রংপুর প্রতিনিধি

ভোটের সময়ের মতোই এবার জ্বালানি তেল নিতে গিয়ে আঙুলে কালি মাখাতে হচ্ছে মোটরসাইকেল চালকদের। রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা-এ জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন নিয়েছে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। একাধিকবার তেল নেওয়া ঠেকাতে চালকদের আঙুলে কালি দিয়ে চিহ্নিত করে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, যা ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সরেজমিনে উপজেলার সোনালি ফিলিং স্টেশন ও বালাবাড়ি এরিস্ট্রোক্র্যাট ফিলিং স্টেশন-এ গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। তেল নিতে অপেক্ষমাণ চালকদের ভিড়ে পাম্প এলাকা রীতিমতো জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

পাম্প কর্তৃপক্ষ প্রতিটি চালকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই এবং মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র পরীক্ষা করার পর আঙুলে কালি দিয়ে চিহ্নিত করছেন। এরপরই দেওয়া হচ্ছে নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি। ফলে একই ব্যক্তি দিনে একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কমে যাওয়ায় এই সংকট দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগী বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে তা মজুদ কিংবা বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করছিল। প্রশাসনের এই উদ্যোগে সেই অনিয়ম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি তাদের।

পাম্পের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “আগে অনেকেই একাধিকবার তেল নিতে লাইনে দাঁড়াতেন। এতে প্রকৃত চালকরা তেল পেতেন না। এখন আঙুলে কালি দেওয়ার ফলে একই ব্যক্তি দ্বিতীয়বার আসতে পারছেন না, ফলে সবার জন্য কিছুটা হলেও ন্যায্যতা নিশ্চিত হচ্ছে।”

তবে এ উদ্যোগে সাধারণ চালকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, সংকটের এই সময়ে এটি কার্যকর ব্যবস্থা হলেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এটি সাময়িক সমাধান হলেও স্থায়ীভাবে সংকট নিরসনে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা জরুরি।

স্থানীয় এক মোটরসাইকেল চালক জানান, “ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কালি দেওয়ার কারণে দ্বিতীয়বার তেল নেওয়া যাচ্ছে না, এটা ভালো। কিন্তু মূল সমস্যা হলো তেলের অভাব, সেটার সমাধান দরকার।”

এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন বলেন, “জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রতিটি চালকের এনআইডি ও যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। একই ব্যক্তি যেন একাধিকবার তেল নিতে না পারেন, সেজন্য আঙুলে কালি দিয়ে চিহ্নিত করা হচ্ছে।”তিনি আরও বলেন, “উপজেলায় কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অনিয়ম যাতে গড়ে না ওঠে, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদের তদারকি অব্যাহত থাকবে।

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

বাচসাসের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট ২০ নভেম্বর

এম.আর.জে শান্ত: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের...

কমিশনার মামুনের পিতার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও বংশাল থানা...

আগামী তিন বছরে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

বাগেরহাট প্রতিনিধি আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশে এক লাখ নতুন...

খুলনায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কেসিসির অভিযান, ভাঙা হলো অবৈধ দোকানপাট

খুলনা প্রতিনিধি খুলনা নগরীর ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ...