
কাইয়ুম বাদশাহ, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ জেলার হাওরবেষ্টিত, সীমান্তবর্তী মধ্যনগর উপজেলার ১ নং উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের মহিষখলা থেকে বাঙ্গালভিটা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মূল সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা ও অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগে মোটরসাইকেল দিয়ে সহজে চলাচল করা যেতো, তবে বর্তমানে রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে, বৃষ্টির পর এটি ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব। বৃষ্টির পানি জমে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে কাদা সঞ্চিত হওয়ায় অনেকে পিছলে পড়ছেন। বিশেষ করে এলাকার ছাত্রছাত্রীরা প্রতিদিন স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় বিপদের মুখে পড়ছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কয়লা ও পাথরবোঝাই ড্রাম ট্রাকের অতিরিক্ত চলাচলের কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে এবং ভারী যানবাহনের চাপের কারণে সড়কটির কাঠামোগত ক্ষতিও ক্রমশ বাড়ছে।
বর্তমানে সড়কটি সংস্কারের মধ্যে রয়েছে; তবে সামান্য বৃষ্টিতেই কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, এই সড়কটি প্রতিদিন কলমাকান্দা উপজেলা, তাহিরপুর, কলাগাঁওসহ অন্যান্য এলাকা থেকে বহু মানুষ চলাচলের জন্য ব্যবহার করেন। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী টেকেরঘাট–নীলাদ্রি পর্যটন স্পট হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এখানে আসেন। তবে সড়কের বেহাল দশার কারণে অনেক পর্যটক চলাচলের সময় গর্তে পড়ে বা কাদায় আটকে যান।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আতাউর রহমান বলেন,
“রাস্তার এই অবস্থার কারণে আমাদের ব্যবসায়িক চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। পথচারী ও শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে আর পর্যটকরা ভীষণ অসন্তুষ্ট।”
অন্য স্থানীয় ব্যবসায়ী মনোহরি দোকানদার নায়েব আলী জানিয়েছেন,
“সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তা কাদা-মাটিতে পরিণত হয়। অনেক মানুষ পিছলে পড়ছেন, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীরা ঝুঁকির মুখে। দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা হওয়া প্রয়োজন।”
গ্রামের বাসিন্দারা সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন, যাতে সড়কের কাজ পুনরায় শুরু হয় এবং সম্পূর্ণরূপে চালু করা যায়। তারা আশা করছেন, সড়কটি সংস্কারের পর শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ ও পর্যটকরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন এবং এলাকার অর্থনৈতিক ও পর্যটন সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে।





