
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেও বাংলাদেশকে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে বিশেষ সুবিধা দিয়েছে তেহরান। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচলে দেওয়া হয়েছে নিরাপদ অনুমতি। জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে এই সিদ্ধান্তকে কৌশলগত সহায়তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশকে অ-শত্রু তালিকায় রাখা হয়েছে। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশি তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, “friendly nations” তালিকায় রেখে নিরাপদ ট্রানজিট নিশ্চিত করছে ইরান।
ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি বলেছেন, “ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলে সহায়তার অনুমোদন দিয়েছে।” তিনি জানান, আটকে থাকা জাহাজগুলো ছাড়ার প্রক্রিয়া চলমান এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
নিরাপদ পথ, বড় স্বস্তি
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই রুটে বিঘ্ন মানেই বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি জাহাজকে নিরাপদ চলাচলের অনুমতি দেওয়া বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিদেশি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধকালীন ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশি জাহাজকে আক্রমণমুক্ত রাখার নিশ্চয়তা দিয়েছে এবং পূর্ব তথ্যের ভিত্তিতে চলাচল সহজ করেছে।
কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও ছাড়
বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে কড়াকড়ি নজরদারি চলছে। অনেক দেশের জাহাজকে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। কোথাও কোথাও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা ও অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “কিছু নির্দিষ্ট দেশকে ছাড় দিয়ে ইরান সীমিত ট্রানজিট চালু রেখেছে।”
জ্বালানি সংকটে পরোক্ষ সহায়তা
যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ সংকট ও বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে।
এই প্রেক্ষাপটে হরমুজ রুট খোলা থাকায় বাংলাদেশ জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ সহায়তা।
কূটনৈতিক ভারসাম্যের সুফল
বাংলাদেশ সংঘাতে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেয়নি। বরং সংলাপ ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলগত ভারসাম্যই ইরানের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অন্যতম কারণ। এক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, “Bangladesh’s balanced diplomacy helped secure Iranian transit support.”
ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রভাব
বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। উভয় দেশই OIC ও D-8 জোটের সদস্য। জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতার ভিত্তিও রয়েছে।
এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক বর্তমান সংকটে পারস্পরিক আস্থাকে আরও জোরদার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শেষ কথা
যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও ইরান বাংলাদেশকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করে জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা করেছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্পর্ক এখনো কৌশলভিত্তিক।
আঞ্চলিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে এর গতিপ্রকৃতি বদলাতে পারে।
তারপরও বর্তমান বাস্তবতায় ইরান বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবেই দেখা দিচ্ছে।
বাসস, এপি ও দ্য স্টেটসম্যান অবলম্বনে





