
শেখ রাসেল, আশুলিয়া প্রতিনিধি:
ঢাকার আশুলিয়ার শিমুলতলা এলাকায় অবস্থিত আনোয়ার সিএনজি পাম্প-এ জ্বালানি তেল বিক্রি ও সরবরাহে দীর্ঘদিনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা মিললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকার জ্বালানি তেলের মজুদ, সরবরাহ ও বিক্রয় ব্যবস্থা তদারকি এবং অবৈধ পাচার রোধে প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে একজন করে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দিয়েছে। তাদের দায়িত্ব পাম্পের দৈনিক তেলের স্টক, সরবরাহ এবং নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রদান করা।
অভিযোগ রয়েছে, আশুলিয়ার শিমুলতলার ওই আনোয়ার সিএনজি পাম্পে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ রেখে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের পরিচিতদের কাছে তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল। এছাড়া রাতের বেলায় ড্রামে করে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল বাইরে বিক্রি করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানকারী দল সরেজমিনে গিয়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করে। ইউএনও বিষয়টি আমলে নিয়ে একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
পরবর্তীতে ট্যাগ অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাম্পের জ্বালানি তেলের মজুদ পরীক্ষা করেন এবং পাম্প কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে যান বলে জানা গেছে। তবে তার চলে যাওয়ার পরপরই পাম্পের কার্যক্রম পুনরায় সীমিত করে দেওয়া হয় এবং সাধারণ গ্রাহকদের তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
একই দিন দিবাগত রাতে আবারও ড্রামে করে প্রায় দুই টনেরও বেশি জ্বালানি তেল বাইরে সরবরাহ করা হয়। এ সময় ইউএনও এবং ট্যাগ অফিসারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ট্যাগ অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে বিষয়টি ইউএনও’র এখতিয়ারভুক্ত বলে জানান। পরে তিনি ইউএনও’র সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানান।
অন্যদিকে, থানায় যোগাযোগ করা হলে পুলিশ জানায়, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হলে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, একাধিকবার তথ্য দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় অনিয়ম অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউএনও’র বক্তব্য পাওয়া যায়নি।





