
মশিউরজ্জামান মুবিন
দীর্ঘ ঈদ ও রমজানের ছুটি শেষে আজ (রোববার) থেকে সারাদেশে স্কুল-কলেজে পুনরায় শুরু হয়েছে পাঠদান কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের কোলাহলে মুখর হয়ে উঠেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুর আগে ও পরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, যা সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সবার জন্যই মানা বাধ্যতামূলক।
প্রতিষ্ঠান খোলার পূর্বেই শ্রেণিকক্ষ, মাঠ, টয়লেটসহ পুরো ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে প্রতিদিন পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে।
প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গাছ লাগানো ও সবুজায়ন কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে সচেতন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সচেতনতামূলক ক্লাস ও আলোচনা আয়োজন করতে বলা হয়েছে।
দীর্ঘ ছুটির কারণে পড়াশোনায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে টানা কয়েকটি শনিবার ক্লাস চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্কুল-কলেজ খোলার ফলে সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। অনেক স্থানে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া কিছু এলাকায় জ্বালানি সংকটের প্রভাবও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশ সচেতনতা এবং শিক্ষার মান বজায় রাখার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হবে আরও নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব।





