
ক্রাইম রিপোর্টার, মোঃ রুবেল আহমদ :
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বরিশালের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও ঐতিহ্যের ধারক চকবাজার এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হওয়া এই ব্যস্ততা থামছে না গভীর রাত অবধি। নগরের প্রাচীনতম এই বাজারটিতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে তিল ধারণের জায়গা নেই।
বড় বড় শোরুম থেকে শুরু করে ফুটপাতের ছোট দোকান—সবখানেই এখন কেবল উৎসবের আমেজ আর কেনাকাটার ধুম। পোশাকের বৈচিত্র্য ও ক্রেতার পছন্দ এবারের ঈদে নারী ও শিশুদের পোশাকে এসেছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। চকবাজারের কাপড় পট্টি ঘুরে দেখা যায়, তরুণীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বাহারি নামের ও ডিজাইনের থ্রি-পিস, সারারা-গারারা এবং ডিজিটাল প্রিন্টের অর্গানজা ড্রেস। শাড়ির দোকানেও উপচে পড়া ভিড়; বিশেষ করে সিল্ক, জামদানি এবং জর্জেট শাড়ির চাহিদা অনেক বেশি।
অন্যদিকে, পুরুষদের কেনাকাটায় প্রাধান্য পাচ্ছে পাঞ্জাবি ও কটি। শিশুদের জন্য রকমারি সুতি ও আরামদায়ক ফ্যাশনেবল পোশাকের ব্যাপক কালেকশন সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। এক বিক্রেতা জানান, “রমজানের শেষ মুহূর্তে এসে বিক্রি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে, আমাদের দম ফেলার সময় নেই।”
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা
অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা পকেটমার ও ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য না বাড়ে, সেজন্য চকবাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল এবং সাদা পোশাকে নজরদারি চালানো হচ্ছে। এছাড়া বাজার কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবীরাও ভিড় নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া ও যানজট কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, “চকবাজারে সাশ্রয়ী দামে সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায় বলেই আমরা দূর-দূরান্ত থেকে এখানে আসি। তবে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কেনাকাটা করতে বেশ কষ্ট হচ্ছে।” এদিকে, মানুষের চাপে চকবাজারমুখী সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, যা সাধারণ পথচারী ও ক্রেতাদের জন্য কিছুটা দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যবসায়িক চিত্র এক নজরে:
প্রধান আকর্ষণ: থ্রি-পিস, শাড়ি, পাঞ্জাবি এবং শিশুদের রেডিমেড পোশাক।
ব্যস্ততম সময়: দুপুর ২টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত।
সার্বিক পরিস্থিতি: ক্রেতার উপস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা দারুণ খুশি, বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা।





