
আজাদ হোসেন, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
আজ ৩ মার্চ বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস। ২০১৩ সালে ২৩ শে ডিসেম্বর জাতিসংঘের ৬৮ তম সাধারণ অধিবেশনে ৩ মার্চ কে বন্যপ্রাণী দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়। বিশ্বের বন্যপ্রাণী এবং উদ্ভিদ গুলোর প্রতি গণ সচেতনতা বৃদ্ধি করায় এই দিবসের মূল লক্ষ্য। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়” ভেষজ ও সুগন্ধি উদ্ভিদ :স্বাস্থ্য ঐতিহ্য এবং জীবিকা সুরক্ষা”।
বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই দিবসটি যথাযথ ভাবে পালন করে বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ এন্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ নামের চুয়াডাঙ্গার একটি পরিবেশবাদী সংগঠন।
এ উপলক্ষে সকাল ১১ টায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হল রুমে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো.আমিনুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ,
মো.শাহজাহান আলী, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা, মো: বিল্লাল হোসেন, উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. আবু খায়ের আতা এলাহী।
গিরিশনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জামাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজ এর প্রাণিবিদ্যা প্রভাষক ও বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ এন্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ এর সভাপতি মো আহসান হাবীব শিপলু।
অনুষ্ঠানে ফারদিন, জিসান প্রমুখ স্বেচ্ছাসেবক আলোচনায় অংশ নেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, মানুষ আশরাফুল মাকলুকাত। তাই বলে এই গ্রহে মানুষ একক প্রাণী নয়। অসংখ্য প্রানের সমারোহ। প্রত্যেকটি প্রাণীকে মানুষের মঙ্গলের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু আজ আমাদের চাওয়া পাওয়ার বিস্তার হারাতে বসেছে বন্যপ্রাণী। শুধু শিকার করে ক্ষান্ত নই আমরা, কিছু বন্যপ্রাণী দেখা মাত্র রেস শুরু করা হয় তাকে হত্যা করার জন্য। এক একটি বন্যপ্রাণী আমাদের বাস্তুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে এবং খাদ্য শৃঙ্খলা ঠিক রেখে জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে। কিন্তু আমাদের কারনে আজ বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্থ হয়। মানুষের সাথে বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান দরকার। তা না হলে মানবজাতিকে চরম মূল্য দিতে হবে।
প্রধান অতিথি আরও বলেন আমি ছোট বেলায় যে পরিমান বন্য প্রাণীর হাক-ডাক শুনতাম তা এখন নেই বললেই চলে। বন্যপ্রাণীর কোন ক্ষতি একসময় আমাদের সহ্য হতো না। তারা না থাকলে আমাদের মহা ক্ষতি তা আমাদের অনেকের অজানা। জন সচেতনতায় পারে অকাতরে বন্যপ্রাণী নিধন, পাচার, ক্রয়-বিক্রয় রোধ করতে। এসময় সংগঠনের সভাপতি বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ এন্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ এর বছরব্যাপী বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন। বন বিভাগ ও প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। ভবিষ্যতে সংগঠের গৃহীত উদ্যোগ বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
শেষে একটি র্যালী ও শহরের চৌরাস্থা মোড়ে (হাসান চত্বর) যেয়ে শেষ হয়। এসময় জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।





