
আলী কদর পলাশ
দেশে “রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা বিধিমালা ২০২৫” নামে একটি নিয়ম হয়েছে।
তাতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, চলাচল, বাসা, অফিস, অনুষ্ঠান, সফর সবকিছুই একটা কাঠামোর ভেতরে আনা হচ্ছে।
মানে, প্রটোকলের কাগজ এখন প্রটোকলের থেকেও শক্ত।
এখন মূল কথায় আসি।
দায়িত্ব ছাড়ার পরও এক বছর ভিভিআইপি।
এসএসএফের নিরাপত্তা।
প্রটোকলের নিয়মে চলাফেরা।
এটা শুনলেই আমাদের সাদামাটা বিশ্বাসটা একটু হোঁচট খায়।
কারণ ইউনূস স্যারের একটা ইমেজ আছে।
খুব কম কথা বলবেন।
খুব কম চাইবেন।
কিন্তু কাজটা বড় করবেন।
আর আমরা বাঙালিরা ইমেজ খুব ভালোবাসি।
ইমেজ ভাঙা আমরা সহ্য করতে পারি না।
আমরা চাই, সাদামাটা মানুষ সাদামাটাই থাকুক।
তার পেছনে যেন সাইরেন না বাজে।
তার সামনে যেন গার্ডরেল না বসে।
কিন্তু রাষ্ট্র একটা অদ্ভুত যন্ত্র।
রাষ্ট্র মানুষের ব্যক্তি দেখে না।
রাষ্ট্র দেখে পদ।
রাষ্ট্র বলে, আপনি মানুষ নন।
আপনি একটা শ্রেণি।
ভিভিআইপি শ্রেণি।
এ শ্রেণির জন্য আলাদা নিয়ম।
আলাদা গাড়ি।
আলাদা রাস্তা।
আলাদা দূরত্ব।
এখানেই ব্যঙ্গের জায়গা।
যিনি মানুষের দূরত্ব কমাতে চেয়েছিলেন।
যিনি গরিবের ঘরের চৌকাঠে দাঁড়িয়ে ব্যাংকিংয়ের গল্প বদলে দিয়েছিলেন।
তিনি এবার প্রটোকলের চৌকাঠে দাঁড়াবেন।
আর আমরা দূর থেকে স্যালুট দেব।
কারণ কাছে যাওয়া নিয়মবহির্ভূত।
আরেকটা মজার ব্যাপার আছে।
ভিভিআইপি প্রটোকল মানে শুধু নিরাপত্তা না।
এটা এক ধরনের রাষ্ট্রীয় স্টাইল।
এটা বলে দেয়, আপনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
আর আমরা জানি—বাংলাদেশে গুরুত্ব অনেক সময় মানুষের কাজ থেকে আসে না।
গাড়ির কাঁচ থেকে আসে।
পেছনের গাড়ির আলো থেকে আসে।
সামনের রাস্তায় খালি জায়গা থেকে আসে।
তাই মানুষ প্রশ্ন করে।
যিনি সত্যিই সাদামাটা, তার এত আয়োজন কেন?
প্রশ্নটা খারাপ না।
প্রশ্নটা আমাদের রাষ্ট্রচিন্তার একটা আয়না।
হয়তো উত্তরটা এমন। রাষ্ট্র নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
রাষ্ট্র নিজের ইনস্টিটিউশন বাঁচায়।
পদ থেকে নামলেও, পদটার ছায়া কিছুদিন থাকে।
এজন্য নিয়ম করা হয়।
কিন্তু নাগরিকের মন অন্য কথা বলে।
নাগরিক বলে, নিরাপত্তা থাক।
ঝুঁকি থাকলে থাক।
কিন্তু ভিভিআইপি শব্দটা একটু কমাও।
এই শব্দটা কানে গেলেই আমরা দু’ভাগ হয়ে যাই।
একদল রাস্তা ছাড়ে।
আরেকদল রাস্তা পায়।
শেষ কথা খুব সোজা।
নিরাপত্তা প্রয়োজন।
এটা অস্বীকার করা যায় না।
কিন্তু প্রটোকল যদি মানুষের সাদামাটাকে ঢেকে দেয়,
তাহলে মানুষ প্রশ্ন করবেই।
কারণ সৎ মানুষের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা আসলে এসএসএফ নয়।
জনগণের আস্থা।
ধানমন্ডি, ঢাকা
রোববার, ০১ মার্চ, ২০২৬





