
লিটন হোসেন, রায়পুর উপজেলা প্রতিনিধি
নারিকেলের ছোবড়া বিক্রি করে জীবন- জীবিকা চলছে লক্ষ্মীপুরের সদরের দালাল বাজার, রায়পুর উপজেলার উদমারা গ্রামের ১৫/২০টি পরিবারের।
আগে এ ছোবা ফেলে দেয়া হলেও এখন পরিত্যক্ত ছোবড়া দিয়েই তৈরি হচ্ছে জাজিম, সোফা ও চেয়ারের গদির মত প্রয়োজনীয় সব জিনিস।জেলা ও অন্যান্য জেলা থেকে ব্যাপারীদের মাধ্যমে কাঁচা ও শুকনো নারিকেল সংগ্রহ করে ছোবড়া ছাড়িয়ে মেশিনের সাহায্যে মাড়াই করে ৪০ ও ৫০ কেজি আকারের বেল্ট বেঁধে রফতানি করা হচ্ছে চট্রগ্রাম সহ রাজধানীর ঢাকাতে । তাছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে খুচরা ক্রেতারা এসেও এগুলো ক্রয় করে নিয়ে যান বলে জানা যায়।
মহাজন ও নারিকেল ছোবড়া ছাড়ানো শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহাজন নিজে ও ব্যাপারীদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কাঁচা ও শুকনো নারিকেল সংগ্রহ করেন। ১শ নারিকেল ১৫ থেকে ১৬শ টাকা দরে কিনে আনেন। এরপর শ্রমিকদের দ্বারা গড়ে ১ হাজার নারিকেলের ছোবড়া ছাড়াতে খরচ হয় ৫ থেকে ৬ শ টাকা। ছোবা ছাড়ানো শেষে মেশিনের সাহায্যে সেগুলো মাড়াই করে রোদে শুকিয়ে প্রস্তুত করা হয় জাজিম, সোফাসহ বিভিন্ন জিনিস। নারিকেলের ছোবড়া ছাড়ানো থেকে শুরু করে বাজারজাত পর্যন্ত গড়ে ৭/৮ জন শ্রমিক সব সময় কাজ করেন। আর এসব শ্রমিকদের মাসিক অথবা চুক্তি ভিত্তিতে পারিশ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হয়।
হারুন ট্রেডার্সের ছোবড়া ছাড়ানো শ্রমিক আলাউদ্দিন জানান, তিনি ১৫ বছরের অধিক সময় ধরে এ কাজ করছেন। এ কাজ করে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোই আছেন। তবে পুরো বছর এর চাহিদা থাকলে তাদের মত শ্রমিকদের অনেক ভালো হতো। অপর শ্রমিক তোফাজ্জেল মন্ডল জানান, তিনি ৫ বছরের বেশি সময় ধরে দালাল বাজারের অমল কুমার পাল এর অধীনে কাজ করছেন। একদিনে তিনি প্রায় ১৮শ থেকে ২ হাজার নারিকেলের ছোবড়া ছাড়াতে পারেন। এতে তার আয় হয় প্রায় ১২শ টাকা। মূলত তারা ৫০ কেজি ওজনের একেকটি বেল্ট বেঁধে বাজারজাত করেন।
মহাজন অমল কুমার পাল জানান, তিনি ১০ বছর ধরে দালাল বাজারের এ ব্যবসা করছেন। তার বাড়িতেই ছোবড়া ছাড়ানোর কাজ করা হয়। এখন দেশে নারিকেল গাছ কমে গেছে ফলে নারিকেলও কম। এ জন্য বেশি দামে নারিকেল কিনতে হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নারিকেল সংগ্রহ করে তা থেকে ছোবড়া বের করেন। সেগুলো মাড়াই করে শুকিয়ে বেল্ট বেঁধে দেশের বিভিন্ন জেলাতে রফতানি করেন। তাছাড়া স্থানীয়ভাবে খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের কাছেও বিক্রি করেন।
হায়দারগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন বাচ্চু প্রায় ২৫ বছর ধরে এ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, “বিভিন্ন জায়গা থেকে নারিকেলের ছোবড়া কিনে এনে মাড়াই করে শুকিয়ে বেল্ট বানিয়ে বিক্রি করি। বছরে প্রায় ছয় মাস ভালো ব্যবসা হয়। এ সময় ৭-৮ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন।তিনি জানান, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ বা সরকারি সহায়তা পেলে এই শিল্প আরও সম্প্রসারণ করা যেত। কিন্তু ব্যাংক ঋণ পাওয়া কঠিন, আর সরকারি দপ্তরগুলোর আগ্রহও কম।
জেলা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন নতুন কর্মসংস্হান তৈরি করতে এই শিল্পে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্হা করা এবং সরকারি সহযোগিতা করা।তাহলে ছোবড়া থেকে তৈরি পণ্য রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।





