
রংপুর প্রতিনিধি
রংপুর মহানগর গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আটটি ওয়ার্ড কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে এক আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সংগঠনের তৃণমূলভিত্তিক বিস্তার, রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনের বাজার তদারকি জোরদার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উঠে আসে। আলোচনা সভায় মহানগর ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সংগঠনের সাংগঠনিক বিস্তার, তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্ব বিকাশ এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বক্তারা বলেন, আসন্ন সময়ে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে শক্তিশালী ও কার্যকর কমিটি গঠন করা হবে, যাতে সংগঠনের আদর্শ ও কর্মসূচি সাধারণ মানুষের কাছে আরও পৌঁছে দেওয়া যায়। সভাপতিত্ব করেন গণঅধিকার পরিষদ রংপুর মহানগরের আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আল ইমরান সুজন। সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মোঃ ইয়াছিন আলী।
সভাপতির বক্তব্যে মোঃ আল ইমরান সুজন বলেন, মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে কার্যকর ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন,সংগঠনকে তৃণমূল থেকে সুসংগঠিত করতে হলে ওয়ার্ডভিত্তিক শক্তিশালী কমিটি গঠন অপরিহার্য। আমরা আটটি ওয়ার্ডে প্রাথমিকভাবে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি। খুব শিগগিরই যাচাই-বাছাই শেষে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে গণঅধিকার পরিষদ অতীতের মতো ভবিষ্যতেও রাজপথে ও জনগণের পাশে থাকবে।
গনঅধিকার পরিষদের রংপুর মহানগরের সদস্য সচিব ইয়াছিন আলী বলেন, পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রমজান সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে প্রশাসনকে প্রতিদিন নিয়মিত বাজার মনিটরিং টিম পরিচালনা করতে হবে। তিনি আরও দাবি জানান, বাজারে সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে ভোক্তাদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সাবেক মেয়র মোস্তফার নামে গঠিত অভিযোগসমূহের বিষয়ে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানান তিনি।
“আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রকৃত সত্য উদঘাটন জরুরি। দোষী হলে শাস্তি, নির্দোষ হলে সম্মান পুনরুদ্ধার এটাই ন্যায়বিচার, তিনি আরও বলেন, নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে শক্তিশালী ও কার্যকর কমিটি গঠন করা হবে, যাতে সংগঠনের আদর্শ ও কর্মসূচি সাধারণ মানুষের কাছে আরও পৌঁছে দেওয়া যায়।
সিনিয়র সদস্য সচিব মোঃ আনোয়ার চৌধুরি বলেন,গণঅধিকার পরিষদ কোনো ব্যক্তিনির্ভর সংগঠন নয়, এটি নীতিনির্ভর একটি রাজনৈতিক শক্তি। আমাদের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও আদর্শিক দৃঢ়তাই হবে আগামী দিনের পথচলার মূল ভিত্তি। তিনি নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরিতে জোর দেন।
রংপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের আহবায়ক কাদের আনসারী শিমুল বলেন, তরুণ সমাজকে সংগঠনের মূলধারায় যুক্ত করতে যুব অধিকার পরিষদ নিরলসভাবে কাজ করছে। ন্যায্য অধিকার আদায় ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে যুবসমাজকেই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, আগামী দিনে ওয়ার্ডভিত্তিক যুব কমিটিও গঠন করা হবে, যাতে তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
আলোচনা সভা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। পরে ইফতার মাহফিলে অংশ নেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা। নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, আটটি ওয়ার্ড কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে রংপুর মহানগরে গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক কার্যক্রম নতুন গতি পাবে এবং জনস্বার্থভিত্তিক আন্দোলন-সংগ্রাম আরও বেগবান হবে।





