
নিজস্ব প্রতিবেদক
নরসিংদীর মাধবদীতে পনেরো বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে চলছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠন নিন্দা জানিয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, বুধবার সন্ধ্যায় বাবা কিশোরীকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে বের হন। স্থানীয় বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে প্রধান অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরার নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক বাবার সামনে থেকেই তাকে তুলে নিয়ে যায়। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ধর্ষক হিসেবে চারজন এবং সালিশকারী হিসেবে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মোট নয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, এর আগেও ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ছিল। দুই সপ্তাহ আগে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় বখাটেরা তাকে অপহরণ করে। পরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হয়। অভিযোগ আছে, বিচার চাওয়ায় উল্টো কিশোরী ও তার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। এলাকা ছাড়ারও চাপ সৃষ্টি করা হয়।
স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বসে। অভিযোগ উঠেছে, সেই সালিশে ন্যায্য বিচার হয়নি। বরং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে। নিহতের পরিবারের দাবি, বিচার না হওয়ায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে স্থানীয় এক সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আহম্মদ আলী দেওয়ান রয়েছেন। আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ এখনও পলাতক। বাকি আসামিদের ধরতে একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।
শুক্রবার গ্রেফতারদের আদালতে তোলা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও আদালত রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেছেন, আগে থানায় অভিযোগ করা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারতো। তবে এখন জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের পরিবার অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে। এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে।





