বাংলাদেশের অবস্থান ঘিরে নতুন বিতর্ক

Date:

spot_img

ক্রিড়া প্রতিবেদক

টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর প্রেক্ষাপটে আল জাজিরার গেম থিওরি অনুষ্ঠানে প্রশ্ন উঠেছে। ক্রিকেটে নিরাপত্তা ঝুঁকি বলতে কী বোঝায়। বাংলাদেশের উদ্বেগ কি যথাযথ গুরুত্ব পেয়েছে। নাকি এখানে দ্বিমুখী মানদণ্ড কাজ করেছে।

আইসিসি পুরুষ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই বাংলাদেশকে ঘিরে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আল জাজিরা ইংলিশের গেম থিওরি অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ। পাশাপাশি প্রশ্ন করা হয়েছে। অন্যদের ক্ষেত্রে যে সুবিধা বা নমনীয়তা দেখা যায়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা কেন দেখা গেল না। অনুষ্ঠানটি প্রকাশিত হয় ৩০ জানুয়ারি ২০২৬।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ক্রিকেটে নিরাপত্তা ঝুঁকি নির্ধারণে এক ধরনের অস্পষ্টতা রয়েছে। কোথায় ঝুঁকি বাস্তব। কোথায় ঝুঁকি রাজনৈতিক। কোথায় ঝুঁকি কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অজুহাত। এই প্রশ্নগুলোই আবার বাংলাদেশের ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।

অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়। আইপিএলে বাংলাদেশের এক ক্রিকেটারকে না নেওয়ার একটি ঘটনার পর বিষয়টি বড় হয়ে ওঠে। আলোচনা ছড়ায়। বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতি আচরণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। সেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় বিশ্বকাপের সূচি ও ভেন্যু ঘিরে টানাপোড়েনের পর।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়। খেলোয়াড় ও টিম ম্যানেজমেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের উদ্বেগ আছে। তাই তারা কয়েকটি ম্যাচের ভেন্যু নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা চেয়েছিল। তাদের যুক্তি ছিল। যদি ভেন্যুতে সীমিত পরিবর্তন আনা যায়। তাহলে দল অংশ নিতে পারবে।

কিন্তু আইসিসি সূচি ও ভেন্যু পরিবর্তনে রাজি হয়নি। এরপর বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়। আল জাজিরার আলোচনায় প্রশ্ন তোলা হয়। নিরাপত্তা যখন যুক্তি হিসেবে সামনে আসে। তখন আইসিসি কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। একই মানদণ্ড কি সব দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

নিরাপত্তা উদ্বেগের সংজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন

গেম থিওরিতে মূল প্রশ্ন ছিল। ক্রিকেটে নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা কে ঠিক করবে। ঝুঁকি নির্ধারণে তথ্য কতটা। আর ধারণা কতটা। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে কখন ভেন্যু বদলায়। কখন বদলায় না। এসব সিদ্ধান্তে কাদের প্রভাব বেশি।

অনুষ্ঠানে ইঙ্গিত করা হয়। বড় বোর্ডগুলোর স্বার্থ অনেক সময় সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। তুলনামূলকভাবে ছোট বা রাজনৈতিকভাবে চাপের মধ্যে থাকা বোর্ডগুলো একই ধরনের সুবিধা পায় না। এখান থেকেই দ্বিমুখী মানদণ্ডের অভিযোগ ওঠে।

প্রতিক্রিয়া

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সাবেক ক্রিকেটার ও বিভিন্ন বিশ্লেষকের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে কঠোর বলে মনে করছেন। তাদের বক্তব্য। পূর্ণ সদস্য দেশের নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিলে টুর্নামেন্টের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

একই সঙ্গে আরেকটি মতও আছে। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে ভেন্যু বদলানো জটিল। সম্প্রচার। টিকিট। ভ্রমণ। নিরাপত্তা। সব কিছু একসঙ্গে জড়িত। তাই আইসিসি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে এই যুক্তি বাংলাদেশের সমর্থকদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি।

কী বলছে বিতর্কের কেন্দ্র

এই বিতর্কের কেন্দ্রে আছে দুটি বিষয়।
এক। বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাস্তব ছিল কিনা।
দুই। আইসিসি সেই উদ্বেগ মূল্যায়নে ন্যায্য আচরণ করেছে কিনা।

বাংলাদেশের সমর্থকদের দাবি। যদি অন্য কোনো বড় দলের ক্ষেত্রে এমন উদ্বেগ আসত। তাহলে সমাধান বের করার চেষ্টা বেশি দেখা যেত। অন্যদিকে আইসিসির সমর্থকদের দাবি। সিদ্ধান্ত নিয়ম অনুযায়ী। এবং সময়ের বাস্তবতার কারণে।

শেষ কথা

আল জাজিরার গেম থিওরি অনুষ্ঠানটি আবারও দেখিয়েছে। ক্রিকেটে নিরাপত্তা শুধু মাঠের বিষয় নয়। এটি কূটনীতি। প্রভাব। এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার সঙ্গেও জড়িত। বাংলাদেশকে ঘিরে এই নতুন বিতর্ক বিশ্বকাপ শুরুর আগেই প্রশ্ন তুলেছে। খেলাটির বৈশ্বিক শাসন কাঠামো আসলে কতটা সমতা নিশ্চিত করতে পারছে।

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

বাচসাসের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট ২০ নভেম্বর

এম.আর.জে শান্ত: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের...

কমিশনার মামুনের পিতার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও বংশাল থানা...

আগামী তিন বছরে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

বাগেরহাট প্রতিনিধি আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশে এক লাখ নতুন...

খুলনায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কেসিসির অভিযান, ভাঙা হলো অবৈধ দোকানপাট

খুলনা প্রতিনিধি খুলনা নগরীর ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ...