
দুর্গাপূজার আনন্দ আর উৎসবমুখর পরিবেশকে রাঙাতে গত ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল তিনটি ভিন্ন স্বাদের বাংলা সিনেমা—‘স্নেহের বন্ধন’, ‘কাট-পিস’ এবং ‘চিরকুট’।
তবে ছুটির আমেজেও হলের টিকিট কাউন্টারগুলোতে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। মানহীন গল্প ও দুর্বল নির্মাণশৈলীর কারণে দর্শক টানতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে ছবিগুলো। এর মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে জয় চৌধুরী ও মৌ খান জুটির পারিবারিক মেলোড্রামা ‘স্নেহের বন্ধন’। মুক্তির আগে রাজধানীর বুকে ছাদখোলা বাসে চড়ে জমকালো প্রচার চালালেও প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখা গেছে ঠিক উল্টো চিত্র। সিঙ্গেল স্ক্রিন থেকে মাল্টিপ্লেক্স—সবখানেই শো ফাঁকা যাওয়ার রেকর্ড হয়েছে।
বরিশালের ‘অভিরুচি’ সিনেমা হলে এই সিনেমার করুণ দশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। হলের ম্যানেজার কবির জানান, শুক্রবার সারা দিনে মাত্র জনা বিশেক দর্শক হলেও সন্ধ্যার শো দর্শকশূন্য থাকায় বন্ধ রাখতে হয়। শনিবারের চিত্র আরও হতাশাজনক; দুপুরের শোতে ৪ জন এবং বিকেলের শোতে মাত্র দুটি টিকিট বিক্রি হয়। লায়ন সিনেমাসের কর্ণধার মির্জা আব্দুল খালেক অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রথম দিন ‘স্নেহের বন্ধন’ সিনেমাটি দেখতে আসা ৩৭ জন দর্শকের মধ্যে ৩৫টি টিকিটই কিনেছিলেন স্বয়ং সিনেমার প্রযোজক, পরিচালক ও কলাকুশলীরা। সাধারণ দর্শক টিকিট কেটেছিলেন মাত্র দুজন! এছাড়া একই হলে ‘কাট-পিস’ সিনেমার কপালে জুটেছে মাত্র ৮টি টিকিট বিক্রি। দর্শক না থাকায় অনেক শোই শেষ পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হচ্ছে হল কর্তৃপক্ষকে।
কামরুজ্জামান পরিচালিত পারিবারিক মেলোড্রামা ‘স্নেহের বন্ধন’ সনাতন ধাঁচের গল্প ও দুর্বল নির্মাণের কারণে চরম দর্শকখরায় পড়েছে। অন্যদিকে, পোশাকশিল্প ও ঝুট ব্যবসার অন্ধকার জগত নিয়ে ইফফাত জাহান মমর ‘কাট-পিস’ সিনেমাটি মিরপুর সনি সিনেমাসহ ২৩টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলেও দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি, নব্বই দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যাম্পাসের নস্টালজিয়া নিয়ে নির্মিত মুনতাসির আকিবের ‘চিরকুট’ ছবিটিতে শ্যামল মাওলা ও আজিজুন মিম অভিনয় করলেও, তা টিকিট বিক্রির অঙ্কে কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি।
চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের মতে, ঈদ ছাড়া অন্য উৎসবে ছবি মুক্তির ঝুঁকি ঢালিউডে খুব কমই সফল হয়। বর্তমান যুগের দর্শকরা যেখানে বড় পর্দার জন্য শক্তিশালী গল্প ও আধুনিক মেকিংয়ের ভিজ্যুয়াল খুঁজছেন, সেখানে এই ছবিগুলো প্রথাগত ও গতানুগতিক ফর্মুলা থেকে বের হতে পারেনি। ফলে পূজার ছুটির আনন্দও বাঁচাতে পারেনি ঢাকাই সিনেমার এই ত্রিমুখী মুক্তিকে। পূজার বাকি দিনগুলোতে এই মন্দা কাটিয়ে সিনেমাগুলো দর্শকখরা কাটাতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মনে।




