
রংপুর ব্যুরো
রংপুর মহানগরের মাহিগঞ্জে যৌথ অভিযান চালিয়ে কালো পাথরের কালীমূর্তির একটি খণ্ডাংশসহ মো. রজব আলী (৬৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে মাহিগঞ্জ থানা পুলিশ ও এসআরবি-১৩, রংপুর। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া প্রাচীন মূর্তির খণ্ডাংশটি চোরাই পথে সংগ্রহ করে পাচারের উদ্দেশ্যে নিজের কাছে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে মাহিগঞ্জ থানার ১ নম্বর কল্যাণী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরা এলাকায় এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে রজব আলীকে আটক করার পাশাপাশি তার হেফাজত থেকে কালো পাথরের কালীমূর্তির একটি খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়। আটক রজব আলী রংপুর মহানগরের মাহিগঞ্জ থানাধীন ১ নম্বর কল্যাণী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরা এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত ফজর আলী এবং মায়ের নাম মৃত জসিমন নেসা।
অভিযানে উদ্ধার করা কালো পাথরের মূর্তির খণ্ডাংশটির উচ্চতা ২৮ দশমিক ৫ ইঞ্চি, প্রস্থ ৫ দশমিক ৫ ইঞ্চি এবং ওজন ২১ কেজি ২০০ গ্রাম। মূর্তিটির আকৃতি, নির্মাণশৈলী ও পাথরের ধরন দেখে এটি পুরোনো বা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের অংশ কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রজব আলীর কাছে একটি কালো পাথরের মূর্তির খণ্ডাংশ থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে মাহিগঞ্জ থানা পুলিশ ও এসআরবি-১৩, রংপুরের সদস্যরা সেখানে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের একপর্যায়ে রজব আলীর কাছ থেকে মূর্তির খণ্ডাংশটি উদ্ধার করা হয় এবং তাকে আটক করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, উদ্ধার করা মূর্তির খণ্ডাংশটি চোরাই পথে সংগ্রহ করা হয়ে থাকতে পারে। পরে সেটি অন্যত্র পাচারের উদ্দেশ্যে রজব আলী নিজের হেফাজতে লুকিয়ে রেখেছিলেন বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। তবে মূর্তিটির প্রকৃত উৎস, কীভাবে এটি তার কাছে এসেছে এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা পুরোনো মন্দির, প্রত্নস্থল ও ধর্মীয় স্থাপনার মূল্যবান মূর্তি ও প্রত্ননিদর্শন চুরি করে একটি চক্র পাচারের চেষ্টা করে থাকে। এসব নিদর্শন দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে কোনো প্রত্ননিদর্শন অবৈধভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ বা পাচারের চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। এদিকে উদ্ধার হওয়া মূর্তির খণ্ডাংশটি কোথা থেকে আনা হয়েছে, এর ঐতিহাসিক বা প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য কতটুকু এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় আটক রজব আলীর বিরুদ্ধে মাহিগঞ্জ থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মূর্তির খণ্ডাংশটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে মূর্তিটির উৎস ও এর সঙ্গে জড়িত অন্য কারও তথ্য পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





