
রাজিবুল ইসলাম রাজিব, খুলনা প্রতিনিধি
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুকৃবি) ট্রেজারার ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. শামীম আহমেদ কামাল উদ্দিন খানের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, হুমকি প্রদান এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কটূক্তির অভিযোগের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘এগ্রোটেকনোলজি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন’।
গত ১০ সেপ্টেম্বর ইউজিসি চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো স্মারকলিপিতে ঘটনার নিরপেক্ষ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ট্রেজারার অধ্যাপক ড. শামীম আহমেদ কামাল উদ্দিন খানের সঙ্গে অশালীন ও অপমানজনক আচরণ করেন। তাকে উদ্দেশ করে অসংযত ভাষা ব্যবহার, গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার মূল কর্মস্থল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিয়ে কটূক্তি ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।
এ ধরনের আচরণের ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, একজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
স্মারকলিপিতে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম আরও কার্যকর করে নিরপেক্ষ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত নিশ্চিত করা; তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও চাকরি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অধ্যাপক ড. শামীম আহমেদ কামাল উদ্দিন খানের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাজের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
সংগঠনটির সভাপতি আবু মোজাফফর মাহমুদের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হুমকি, অসদাচরণ বা পেশাগত অনাচারের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ইউজিসির দ্রুত আইনানুগ পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে সংগঠনটি।
তদন্ত কমিটি গঠন
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক ড. শামীম আহমেদ কামাল উদ্দিন খান জানান, গত ২০ আগস্ট তিনি খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের পর ২৪ আগস্ট তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ড. মো. সাজ্জাদুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং সিন্ডিকেট সদস্য ড. কে এম রেজাউল করিম ও মো. কামরুজ্জামানকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটি তদন্তের জন্য ২০ কার্যদিবস সময় চেয়েছে বলে জানান তিনি।
অধ্যাপক শামীম আহমেদ কামাল উদ্দিনের অভিযোগ, তদন্ত চলাকালে অভিযুক্তদের কেউ কেউ প্রশাসনিক দায়িত্বে বহাল থাকায় তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আনার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান।
৬ শিক্ষকের প্রতিবাদ
এদিকে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদেরকে গালিগালাজ ও হুমকি: অভিযুক্ত ৬ শিক্ষকের বিরুদ্ধে’ শিরোনামের প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষক।
তারা হলেন—সহকারী অধ্যাপক মো. মোশেদুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক ড. মো. তসলিম হোসেন, সহকারী অধ্যাপক ড. এম এ হায়রান, সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মেহেদী আলম, সহকারী অধ্যাপক মো. উজ্জ্বল হোসেন এবং সহকারী অধ্যাপক মো. হাফিজুর রহমান।
প্রতিবাদলিপিতে তারা দাবি করেন, ওই প্রতিবেদনে একটি একাডেমিক আলোচনা—যার মধ্যে পরীক্ষা পদ্ধতি, খাতা পুনর্মূল্যায়ন ফি বৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের মতো বিষয় ছিল—বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বানোয়াট তথ্য ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তারা বলেন, এতে তাদের সামাজিক মর্যাদা, পেশাগত সুনাম ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
প্রতিবেদনটি তৈরির ক্ষেত্রে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. শামীম আহমেদ কামাল উদ্দিন খান কর্তৃক ২০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগকে ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হয়েছে। ওই লিখিত অভিযোগে কতিপয় শিক্ষক কর্তৃক ট্রেজারারের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও অসদাচরণ প্রদর্শনের অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রতিবেদনে ট্রেজারারের লিখিত অভিযোগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তথ্যেও অধ্যাপক ড. শামীম আহমেদ কামাল উদ্দিন খানকে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।





