
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলা হবে এবং তা হবে সমতা, স্বাধীনতা ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘বন্ধু পাল্টানো যায়, কিন্তু প্রতিবেশী পাল্টানো যায় না।’ দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ ও কথাবার্তা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নতুনভাবে তৈরি হবে। গত ১৭ বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে যে ধরনের সম্পর্ক ছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে সমতার ভিত্তিতে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে।
শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার সময়ের মতো ভারতের কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এখন থেকে সবকিছু স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে আলোচনার মাধ্যমে করা হবে।
সাকিবের দেশে ফেরায় নিরাপত্তার আশ্বাস
সাকিব আল হাসান প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সাকিব ভালো খেলোয়াড় হতে পারেন, তবে মানুষ হিসেবে তিনি ‘নষ্ট ও পচে যাওয়া’।
তবে সাকিব দেশে ফিরতে চাইলে তাকে পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। দেশে ফিরলে সাকিবকে আদালতের মুখোমুখি হতে হবে এবং তিনি তার আইনি অধিকার পাবেন বলেও উল্লেখ করেন তথ্য উপদেষ্টা।
শেখ হাসিনাও নাগরিক অধিকার পাবেন
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গেও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকেও পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বীভৎস মানুষটাও তার নাগরিক অধিকার পাবে।’
যে কোনো সময় ভারত যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা জানান, বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত আমন্ত্রণ জানিয়েছে। পাশাপাশি ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও তাকে আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে কোনো সময় ভারত সফরে যেতে পারেন।
সরকারের অগ্রগতি মূল্যায়ন হচ্ছে
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড ও অগ্রগতি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ছয় মাস বা ১৮০ দিন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই জনগণের সামনে সরকারের অর্জন, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।
সরকারের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নের মাধ্যমে কোথায় সাফল্য এসেছে, কোথায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোন পথে এগোনো হবে—সে বিষয়গুলোও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হবে বলে জানান তিনি।





