‎সাড়া ফেলেছে তথ্যভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘রংপুর ডায়েরি’

Date:

spot_img

‎রংপুর ব্যুরো

‎প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির এই সময়ে নাগরিক জীবনের নানা প্রয়োজনীয় তথ্য যদি হাতের মুঠোয় পাওয়া যায়, তাহলে কমে আসতে পারে মানুষের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে সঠিক তথ্যের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘোরার পরিবর্তে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যদি প্রয়োজনীয় তথ্য এক জায়গায় তুলে ধরে, তাহলে নাগরিক সেবার চিত্রেও আসতে পারে ইতিবাচক পরিবর্তন। এমনই একটি চিন্তা থেকে গড়ে উঠেছে তথ্যভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘রংপুর ডায়েরি’। এটি শুধু একটি ওয়েবসাইট নয়—উদ্যোক্তার পরিকল্পনা অনুযায়ী রংপুরের নাগরিকদের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল তথ্যভান্ডার হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে প্ল্যাটফর্মটি। একই সঙ্গে নাগরিকদের মতামত, অভিযোগ, সমস্যা, পরামর্শ, সাহিত্যচর্চা ও সৃজনশীল প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে এটি হয়ে উঠছে একটি উন্মুক্ত নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তা এম এ রশিদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা ‘রংপুর ডায়েরি’ ইতোমধ্যে রংপুরবাসীর মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সেবা ও তথ্য সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

‎## এক প্ল্যাটফর্মে প্রয়োজনীয় নাগরিক তথ্য

‎রংপুর ডায়েরিকে একটি সমৃদ্ধ অনলাইন তথ্যভান্ডার হিসেবে সাজানোর কাজ চলছে। এর ডেটাবেজে রংপুরের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর, আদালত, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার-ঘাট, দর্শনীয় স্থান, স্থানীয় গণমাধ্যম, জরুরি সেবা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের তথ্য এক জায়গায় সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবার তথ্য সহজে খুঁজে পাওয়ার সুযোগ থাকলে তা নাগরিকদের প্রয়োজনের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য এক জায়গায় থাকায় নাগরিকদের তথ্য খোঁজার সময়ও কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উদ্যোক্তার মতে, নাগরিকদের যাতে প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয় এবং তথ্যের অভাবে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে না হয়—সেই লক্ষ্যেই তথ্যগুলোকে সহজ ও ব্যবহারবান্ধবভাবে সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

‎## শুধু তথ্য নয়, নাগরিক সমস্যার কথাও বলবে ‘রংপুর ডায়েরি’

‎‘রংপুর ডায়েরি’র অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নাগরিক অংশগ্রহণের সুযোগ। কোনো এলাকার রাস্তা, সেতু, ড্রেনেজ, জলাবদ্ধতা, সড়কবাতি, পরিচ্ছন্নতা কিংবা অন্য কোনো নাগরিক সমস্যা থাকলে তা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।নাগরিকদের এসব সমস্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার লক্ষ্যও রয়েছে প্ল্যাটফর্মটির। অর্থাৎ শুধু তথ্য প্রকাশ নয়, নাগরিক সমস্যা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বশীলদের দৃষ্টি আকর্ষণের একটি ডিজিটাল মাধ্যম হিসেবেও কাজ করতে চায় ‘রংপুর ডায়েরি’। এতে নাগরিকদের সঙ্গে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগাযোগ আরও সহজ হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

‎## ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর বিষয়টি আলোচনায়

‎সম্প্রতি ‘রংপুর ডায়েরি’র মাধ্যমে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর বিষয়টি সামনে আসে। স্থানীয় এক যুবক সেতুটির ছবি ও সমস্যার কথা প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরেন। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের নজরে আসে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকে সেতুটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। একটি নাগরিক সমস্যা কীভাবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বৃহত্তর পরিসরে আলোচনায় আসতে পারে, ঘটনাটি তার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বৈরাগীপাড়ার স্থানীয় যুবক শাহাদাত হোসেন বলেন, ২৪ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা, বিশেষ করে বৈরাগীপাড়া ও নূরপুর এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ওই সেতু দিয়ে চলাচল করছেন। সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে নড়বড়ে অবস্থায় থাকলেও সংস্কারের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে কাজ শুরু হয়নি। তার ভাষায়, শুধু সংস্কারের পরিবর্তে প্রয়োজন হলে নতুন করে সেতু নির্মাণ করা জরুরি। বিষয়টি সিটি করপোরেশনের নজরে আনার উদ্দেশ্যে তিনি ‘রংপুর ডায়েরি’ প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতায় একটি পোস্ট করেন। পরে সাংবাদিকরা বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন। শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘রংপুর ডায়েরি’ থেকে বিভিন্ন ধরনের তথ্যসেবা পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া একটি গ্রুপের মাধ্যমে নাগরিকরা নিজেদের এলাকার সমস্যা, পরামর্শ ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরতে পারছেন।

‎## নাগরিকদের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্য

‎উদ্যোক্তা এম এ রশিদ বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে খুব সহজে তাদের অধিকার ও সমস্যার কথা বলতে পারেন, সেটিই ‘রংপুর ডায়েরি’ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্যগুলোর একটি। তিনি বলেন, একজন নাগরিককে একটি সাধারণ তথ্যের জন্য যেন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে না হয়, সঠিক তথ্যের অভাবে যেন কাউকে হয়রানির শিকার হতে না হয়—এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপ্ন থেকেই এই উদ্যোগ। এম এ রশিদের প্রত্যাশা, ‘রংপুর ডায়েরি’ এমন একটি সেবামূলক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে, যেখানে শহরের পাশাপাশি প্রান্তিক এলাকার মানুষও নিজেদের নাগরিক অধিকার, প্রয়োজনীয় সেবা ও সমস্যার বিষয়ে সহজে তথ্য পেতে পারবেন। তার ভাষায়, রংপুরের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের কণ্ঠস্বরকে ডিজিটাল পরিসরে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

‎## সাহিত্য ও সৃজনশীল প্রকাশেরও সুযোগ

‎নাগরিক সেবার তথ্যের পাশাপাশি মানুষের সৃজনশীল প্রকাশের ক্ষেত্র হিসেবেও ‘রংপুর ডায়েরি’কে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এখানে নাগরিকরা কবিতা, গল্প, সাহিত্যচর্চা ও বিভিন্ন সৃজনশীল লেখা প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে নাগরিক সমস্যা ও তথ্যের পাশাপাশি রংপুরের স্থানীয় সংস্কৃতি, সাহিত্য ও মানুষের সৃজনশীলতাকেও একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় মানুষের নিজস্ব ভাবনা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করা এই প্ল্যাটফর্মের আরেকটি সম্ভাবনাময় দিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎## তথ্যের পাশাপাশি জবাবদিহিতার সুযোগ

‎নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে তথ্যের সহজলভ্যতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিকদের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। ‘রংপুর ডায়েরি’ সেই জায়গাতেও ভূমিকা রাখতে চায়। কোনো এলাকার সমস্যার কথা নাগরিকরা তুলে ধরলে সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা সম্পর্কে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।সচেতন নাগরিকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত ও দায়িত্বশীলভাবে পরিচালিত হলে ভবিষ্যতে স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও কার্যকর করতে সহায়ক হতে পারে।

‎## তৈরি হচ্ছে বড় ডেটাবেজ

‎বর্তমানে ‘রংপুর ডায়েরি’র ওয়েবসাইটের ডেটাবেজ তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, সংযোজন ও নিয়মিত হালনাগাদের কাজও করা হচ্ছে। উদ্যোক্তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ডেটাবেজ আরও সমৃদ্ধ হবে। রংপুরের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় তথ্য যাতে একটি নির্ভরযোগ্য জায়গা থেকে পাওয়া যায়, সে লক্ষ্যেই তথ্যের পরিধি বাড়ানোর কাজ চলছে। তথ্যের নির্ভুলতা ও নিয়মিত হালনাগাদ রাখার বিষয়টিকে প্ল্যাটফর্মটির ভবিষ্যৎ কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎## ওয়েবসাইটের পাশাপাশি আসছে অ্যাপ

‎‘রংপুর ডায়েরি’র ওয়েবসাইট ইতোমধ্যে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। www.rangpurdiary.com পাশাপাশি নাগরিকদের আরও সহজে সেবা দেওয়ার জন্য অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপও তৈরি করা হয়েছে। উদ্যোক্তার তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপটি বর্তমানে Google Play Store-এ রিভিউ পর্যায়ে রয়েছে। অ্যাপ চালু হলে নাগরিক সেবা ও তথ্য অনুসন্ধানের পাশাপাশি অভিযোগ, মতামত এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য আরও সহজে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

‎## রংপুরের ডিজিটাল পরিচয়ের স্বপ্ন

‎বর্তমান সময়ে একটি শহরের উন্নয়নের সঙ্গে ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা ও নাগরিক অংশগ্রহণের সম্পর্ক ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেই বাস্তবতায় রংপুরের জন্য একটি নিজস্ব তথ্যভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগকে সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, রংপুরের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সেবা, জরুরি যোগাযোগ, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, সংস্কৃতি, পর্যটন ও স্থানীয় সমস্যার তথ্য যদি একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্মে ধীরে ধীরে যুক্ত করা যায়, তাহলে এটি ভবিষ্যতে রংপুরবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল রেফারেন্স হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।তবে এ ধরনের প্ল্যাটফর্মের কার্যকারিতা ধরে রাখতে তথ্যের নির্ভুলতা, নিয়মিত আপডেট, নিরপেক্ষতা, ব্যবহারকারীর তথ্যের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করছেন সচেতন মহল।

‎## ‘একটি স্বপ্ন থেকেই শুরু’

‎পেশাদার সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা না থাকলেও একটি স্বপ্ন, মানুষের জন্য কিছু করার আগ্রহ এবং দৃঢ় সংকল্প থেকেই ‘রংপুর ডায়েরি’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান এম এ রশিদ। তিনি বলেন, প্রযুক্তিকে শুধু বিনোদন বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে কাজে লাগানো সম্ভব। সেই চিন্তা থেকেই রংপুরের নাগরিকদের জন্য একটি তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। তার স্বপ্ন, ভবিষ্যতে ‘রংপুর ডায়েরি’ এমন একটি জায়গায় পৌঁছাবে, যেখানে একজন নাগরিক ঘরে বসেই নিজের প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাবেন, নিজের এলাকার সমস্যার কথা জানাতে পারবেন, মতামত দিতে পারবেন এবং একই সঙ্গে অন্যদের জন্যও প্রয়োজনীয় তথ্য রেখে যেতে পারবেন।

‎## মানুষের জন্য প্রযুক্তি—সফলতার মূল চাবিকাঠি

‎ডিজিটাল বাংলাদেশের পরবর্তী পর্যায়ে প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করে তোলা। সেই জায়গা থেকেই ‘রংপুর ডায়েরি’র মতো স্থানীয় উদ্যোগের গুরুত্ব তৈরি হচ্ছে। একদিকে প্রয়োজনীয় নাগরিক তথ্যকে এক জায়গায় আনার চেষ্টা, অন্যদিকে নাগরিকদের সমস্যা ও মতামত তুলে ধরার সুযোগ—দুইয়ের সমন্বয়ে ‘রংপুর ডায়েরি’ একটি অংশগ্রহণমূলক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, পরিকল্পনা অনুযায়ী তথ্যভান্ডার আরও সমৃদ্ধ ও নির্ভুল হবে, নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ করা হবে এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে। তাহলে ভবিষ্যতে এটি শুধু একটি ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রংপুরের নাগরিক জীবন, তথ্য ও সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিণত হতে পারে। উদ্যোক্তা এম এ রশিদের ভাষায়, ‘রংপুর ডায়েরি’ শুধু একটি ওয়েবসাইট নয়; এটি মানুষের কথা বলার জায়গা, প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার একটি মাধ্যম এবং রংপুরের একটি ডিজিটাল পরিচয় গড়ে তোলার স্বপ্ন।

‎প্রযুক্তির শক্তিকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করার এই উদ্যোগ কতটা বিস্তৃত ও কার্যকর হয়ে উঠবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে তথ্যের মান, নিয়মিত হালনাগাদ, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর। তবে শুরুতেই নাগরিক তথ্য ও জনদুর্ভোগের বিষয়গুলোকে ডিজিটাল পরিসরে তুলে ধরার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে রংপুরের ডিজিটাল নাগরিকসেবার ক্ষেত্রে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

খুলনায় টাইগার গার্ডেন হোটেলে এসি বিস্ফোরণে আগুন, পুড়ে গেছে কক্ষের সব মালামাল

এম রোমানিয়া, খুলনা ব্যুরো খুলনায় নগরীর শিববাড়ি মোড়ের টাইগার গার্ডেন...

বলিভিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ১০

বলিভিয়ায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন...

বাবার চাকুরির জন্য সন্তানের মানববন্ধন

দিনাজপুর প্রতিনিধি বাবার চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় মধ্যপাড়া গ্রানাইট...

ছিটকিনি লাগানোকে কেন্দ্র করে ববিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি 
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন একটি মেসের...