
বিবিসি অবলম্বনে মুখপাত্র ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ। পররাষ্ট্রনীতিতে আগ্রাসী অবস্থান স্পষ্ট।
ভেনেজুয়েলা অভিযানের পর নতুন করে বার্তা দিলেন তিনি।
কারাকাসে নাটকীয় অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়।
ওয়াশিংটনের ভাষায় এটি ছিল হুমকি বাস্তবায়ন।
ট্রাম্প এটিকে যুক্তি দিলেন ১৮২৩ সালের মনরো ডকট্রিন দিয়ে।
নতুন নামও দিলেন।
‘ডনরো ডকট্রিন’।
এই ঘটনার পর আরও কয়েকটি দেশ ও ভূখণ্ড নিয়ে সতর্কবার্তা বাড়ছে।
যেখানে কৌশল আছে।
সম্পদ আছে।
আর আছে নিরাপত্তার যুক্তি।
১. গ্রিনল্যান্ড
মার্কিন চোখে দ্বীপ নয় কৌশলগত ঘাঁটি
গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি আগেই আছে। পিটুফিক স্পেস বেস কিন্তু ট্রাম্প চান পুরো দ্বীপ।
তার দাবি
জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড দরকার।
তিনি বলেন রুশ ও চীনা জাহাজে অঞ্চল ভরে গেছে।
গ্রিনল্যান্ড বিরল খনিজে সমৃদ্ধ।
স্মার্টফোন। বৈদ্যুতিক গাড়ি। সামরিক প্রযুক্তি।
সবখানেই এসব খনিজ জরুরি।
চীন এখন এই খনিজ উৎপাদনে এগিয়ে।
এটাই যুক্তরাষ্ট্রের বড় উদ্বেগ।
গ্রিনল্যান্ডের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ।
আর্কটিক রুট খুলছে।
বরফ গলছে।
নতুন নৌপথ আসছে।
এখানেই ভবিষ্যতের নিয়ন্ত্রণের লড়াই।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড বলেছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চায় না।
ডেনমার্ক সতর্ক করেছে
নেটোর সদস্যকে আক্রমণ করলে সব থেমে যাবে।
২. কলম্বিয়া
মাদক যুদ্ধ নাকি সম্পদের লড়াই
ভেনেজুয়েলার অভিযানের পর ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেন।
তিনি বলেন
নিজের দিকে খেয়াল রাখুন।
কলম্বিয়া তেল সমৃদ্ধ।
সোনা। রূপা। পান্না। প্লাটিনাম। কয়লা।
সবই আছে।
আর আছে কোকেনের বড় কেন্দ্র।
যুক্তরাষ্ট্রের মাদকবিরোধী যুদ্ধের বড় ফ্রন্টলাইন এখানেই।
ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন। বলেছেন
তিনি কোকেন বানাতে ও বিক্রি করতে পছন্দ করেন।
কলম্বিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ।
কিন্তু এখন সেই মিত্রতার ওপর চাপ বাড়ছে।
নিষেধাজ্ঞা এসেছে।
সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিতও শোনা যাচ্ছে।
৩. ইরান
বিক্ষোভকে ঘিরে হুমকি আরও তীক্ষ্ণ
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে।
ট্রাম্প বলেছেন
আরও মানুষ মরলে কঠোর আঘাত হবে।
ইরান মনরো ডকট্রিনের আওতায় নয়।
তবু ওয়াশিংটনের নজরে সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ।
গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ইসরায়েল-ইরান সংঘাত দীর্ঘ হয়েছে ১২ দিন।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বৈঠকে ইরান ছিল শীর্ষ আলোচনায়।
মার্কিন মিডিয়া বলছে
২০২৬ সালে নতুন হামলার সম্ভাবনাও আলোচনায় আছে।
৪. মেক্সিকো
সীমান্ত দেয়াল থেকে কার্টেল যুদ্ধ
মেক্সিকো ট্রাম্প রাজনীতির পুরনো ইস্যু।
সীমান্ত দেয়াল ছিল তার বড় প্রতীক।
তিনি ক্ষমতায় ফিরে প্রথম দিনেই নাম বদলের আদেশ দেন।
মেক্সিকো উপসাগরকে করেন ‘আমেরিকা উপসাগর’।
এটিও ছিল রাজনৈতিক বার্তা।
ট্রাম্প বারবার বলেন
মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে মাদক ঢুকছে।
অবৈধ অভিবাসন থামছে না।
এবার তিনি বলছেন
কার্টেল খুব শক্তিশালী।
আমাদের কিছু করতে হবে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন।
কিন্তু উত্তেজনা থামছে না।
৫. পশ্চিম গোলার্ধের আরও অঞ্চল
ডনরো ডকট্রিনের ছায়া
ট্রাম্প বলছেন
পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ফিরবে।
এখানে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব কমাতে চান তিনি।
এই ভাষা কেবল প্রতীক নয়।
এটি ভবিষ্যৎ অভিযান ও চাপের রাজনৈতিক কাঠামোও।
বিশ্লেষণ
এটা শুধু পররাষ্ট্রনীতি নয়
এটা ক্ষমতার ঘোষণা
ভেনেজুয়েলা অভিযানের মাধ্যমে ট্রাম্প দেখালেন
তিনি কথায় থামবেন না।এরপর লক্ষ্য হচ্ছে এমন জায়গা যেখানে তিনটি বিষয় আছে
খনিজ ও জ্বালানি
কৌশলগত সামরিক অবস্থান মাদক ও নিরাপত্তার যুক্তি।
গ্রিনল্যান্ডে খনিজ ও আর্কটিক নিয়ন্ত্রণ।
কলম্বিয়ায় মাদক যুদ্ধের নামে চাপ।
ইরানে পারমাণবিক ঝুঁকি ও ইসরায়েলি হিসাব।
মেক্সিকোতে সীমান্ত ও কার্টেল।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের বার্তা একটাই যুক্তরাষ্ট্র আবার শক্তি দেখাতে প্রস্তুত।
আর বিশ্ব এখন দেখছে
ভেনেজুয়েলার পর কার পালা





