নতুন অধ্যায়? নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে বরফ গলাতে চাইছে ভারত

Date:

spot_img

 

আল জাজিরা অবলম্বনে মুখপাত্র ডেস্ক

ঢাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাক্ষাৎ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। এই বৈঠককে অনেকে নতুন কূটনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতে জয়শঙ্কর ঢাকায় যান। তিনি শুধু আনুষ্ঠানিকতা করেননি। তিনি প্রকাশ্যে খালেদা জিয়ার “দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ”-এর কথা বলেছেন। এটি অতীতে ভারতের বিএনপি-বিরোধী অবস্থানের সঙ্গে বড় পরিবর্তন।

বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন। সেই নির্বাচন সামনে রেখে ভারত ও বিএনপি সম্পর্ক নতুনভাবে সাজাতে চাইছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষই এখন প্রয়োজনের কারণে কাছাকাছি আসছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসন পড়ে যায়। এরপর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়ে। শেখ হাসিনা এখন দিল্লিতে আছেন। বাংলাদেশে এতে ভারতবিরোধী ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। ভিসা সেবা সাময়িক বন্ধ হয়েছে। বিক্ষোভও বেড়েছে।

এদিকে নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক মাঠ বদলে গেছে। বিএনপি নতুনভাবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। দলটি এখন কেন্দ্র ও উদারপন্থী ভোটারদের কাছে যেতে চাইছে। বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে আগের সম্পর্কও ভেঙেছে। এতে ভারতের ধারণাও বদলেছে। দিল্লির কাছে জামায়াত এবং ছাত্র আন্দোলনের নতুন জোট বেশি অনিশ্চিত। তাই ভারতের কাছে তারেক রহমান তুলনামূলক “নিরাপদ বিকল্প” বলে মনে করা হচ্ছে।

তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন দীর্ঘ নির্বাসনের পর। তিনি সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের কথা বলেছেন। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা মনে করেন, তারেক রহমান আগের চেয়ে পরিণত হয়েছেন। তবে ভবিষ্যতে তাঁর কাজ বক্তব্যের সঙ্গে মিলে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।

তবে শুধু করমর্দন বা শোকবার্তায় সম্পর্ক ঠিক হবে না। বিএনপির উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলছেন, নতুন শুরু চাইলে অতীত থেকে “পরিষ্কার বিচ্ছেদ” দরকার। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার সময়ে সম্পর্কটি এককভাবে হাসিনাকেন্দ্রিক ছিল। বিএনপি বলছে, তারা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করবে। তারা ভারত-চীনসহ সব শক্তির সঙ্গে সমদূরত্ব রাখার কথা বলছে।

সবচেয়ে বড় জটিলতা হলো শেখ হাসিনা প্রসঙ্গ। বিএনপি বলেছে, তারা হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার চাপ চালিয়ে যাবে। ভারত সেই বিষয়ে এখনো অবস্থান বদলায়নি। ভারতের আরেকটি উদ্বেগও আছে। সেটি হলো বাংলাদেশের ভেতরে ভারতবিরোধী গোষ্ঠীর প্রভাব। অতীতে বিএনপির শাসনামলে এই অভিযোগ ছিল। এবারও দিল্লি সেই আশঙ্কা করছে।

রাজনীতির বাইরে উত্তেজনা ক্রিকেটেও দেখা গেছে। ভারতের আইপিএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিতে চাপ দেওয়া হয়েছে। এতে বোঝা যায় সম্পর্কের টানাপোড়েন শুধু কূটনীতিতে সীমিত নয়। জনমত ও জাতীয় আবেগেও তা প্রভাব ফেলছে।

সব মিলিয়ে, ভারতের এই উদ্যোগ কেবল সৌজন্য নয়। এটি বদলে যাওয়া বাস্তবতায় নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা। তবে এই সমীকরণ টিকবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এটি নির্ভর করবে দুই দেশ কতটা বিশ্বাস তৈরি করতে পারে তার ওপর।

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

খুলনায় টাইগার গার্ডেন হোটেলে এসি বিস্ফোরণে আগুন, পুড়ে গেছে কক্ষের সব মালামাল

এম রোমানিয়া, খুলনা ব্যুরো খুলনায় নগরীর শিববাড়ি মোড়ের টাইগার গার্ডেন...

বলিভিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ১০

বলিভিয়ায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন...

বাবার চাকুরির জন্য সন্তানের মানববন্ধন

দিনাজপুর প্রতিনিধি বাবার চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় মধ্যপাড়া গ্রানাইট...

ছিটকিনি লাগানোকে কেন্দ্র করে ববিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি 
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন একটি মেসের...